বায়ুসেনার তেজস যুদ্ধবিমান আবারও দুর্ঘটনার শিকার হওয়ায় বিমান নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। গত ৭ ফেব্রুয়ারি একটি প্রশিক্ষণ মিশন শেষে সেনাঘাঁটিতে ফিরছিল বিমানটি। অবতরণের সময় হঠাৎ ব্রেক কার্যকর হয়নি, যার ফলে বিমানটি রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তবে পাইলট শেষ মুহূর্তে ককপিট খুলে লাফিয়ে পড়ায় প্রাণে বেঁচে যান।
এই ঘটনা বায়ুসেনাকে সতর্ক করেছে। দুর্ঘটনার পরে প্রায় ৩০টি এক আসন বিশিষ্ট তেজস বিমান সাময়িকভাবে বসিয়ে রাখা হয়েছে। বিমানগুলোর যান্ত্রিক ত্রুটি ও নিরাপত্তা পরীক্ষা করার জন্য তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে তেজস পুনরায় আকাশে উড়ার জন্য প্রস্তুত হবে।
বায়ুসেনার জন্য তেজস এক গুরুত্বপূর্ণ যুদ্ধবিমান। সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি এই লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্ট শত্রু বিমান ও হুমকির মোকাবিলায় অত্যন্ত কার্যকর। তেজসের নিরাপত্তা ও দক্ষতা নিশ্চিত করার জন্য নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং যান্ত্রিক ত্রুটি যাচাই অপরিহার্য।
উল্লেখযোগ্য যে, তেজসের তৈরি ও ডেলিভারিতে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক হিন্দুস্থান এরোনটিক্স লিমিটেডকে ২০২১ সালে ৮৩টি বিমান তৈরির দায়িত্ব দিয়েছিল। পরবর্তীতে আরও ৯৭টি তেজস তৈরি করার বরাত দেওয়া হয়। এর মাধ্যমে বায়ুসেনার লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফ্টের বহর বৃদ্ধি পাচ্ছে।
অতীতে তেজসের দুটি দুর্ঘটনা ঘটলেও, পাইলটরা সাফল্যের সঙ্গে নিজেদের রক্ষা করেছেন। এই ধরনের ঘটনা বায়ুসেনাকে আরও কড়া নিরাপত্তা প্রটোকল ও নিয়মিত যান্ত্রিক পরীক্ষা চালানোর দিকে মনোযোগী করেছে।
এই দুর্ঘটনা বায়ুসেনার জন্য একটি সতর্কবার্তা হিসেবেও দেখা হচ্ছে। বিমান যেকোনো মুহূর্তে বিপদে পড়তে পারে, তাই উচ্চমানের রক্ষণাবেক্ষণ, প্রযুক্তিগত ত্রুটি যাচাই ও প্রশিক্ষণই ভবিষ্যতে বিমান ও পাইলট উভয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে বলেই দাবী সংশ্লিষ্ট মহলের।

