ভোটের ফলাফল ঘোষণার আর মাত্র কয়েকটা প্রহর বাকি। আর তার আগেই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে কোনওরকম ফাঁক রাখতে নারাজ তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। হাই-ভোল্টেজ ভোটগণনার আগে দলের রণকৌশল চূড়ান্ত করতে রবিবার সন্ধ্যায় নিজের খাসতালুক ভবানীপুর (Bhowanipore)-এর সমস্ত কাউন্সিলর এবং কাউন্টিং এজেন্টদের নিজের কালীঘাট (Kalighat)-এর বাসভবনে ডেকে পাঠালেন তিনি। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোটবাক্স খোলার আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হতে চলেছে।
পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্য রাজনীতির ভরকেন্দ্র সর্বদা এই কলকাতাকে (Kolkata) ঘিরেই আবর্তিত হয়। আর শহরের বুকে তৃণমূল কংগ্রেসের সবচেয়ে বড় দুর্গের নাম হলো ওই নির্দিষ্ট কেন্দ্রটি। নিজের গড় নিয়ে বরাবরই অত্যন্ত সচেতন এবং স্পর্শকাতর তৃণমূল নেত্রী। তাই ভোটগণনার দিন যাতে দলের কোনও এজেন্ট বা কর্মীর সামান্যতম গাফিলতিতে বিরোধীরা কোনওরকম সুযোগ না পায়, তা নিশ্চিত করতেই এই জরুরি তলব বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
রবিবার সন্ধ্যার এই বিশেষ বৈঠকে মূলত তিনটি বিষয়ের ওপর সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হবে বলে দলীয় সূত্রে খবর পাওয়া যাচ্ছে। প্রথমত, কাউন্টিং এজেন্টদের দায়িত্ব ও কর্তব্য। ভোটগণনা কেন্দ্রে এই এজেন্টদের ভূমিকাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ইভিএম (EVM) বা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনের সিল ঠিক আছে কিনা, তা শুরুতেই মিলিয়ে দেখা থেকে শুরু করে ফর্ম ১৭সি-র সঙ্গে প্রাপ্ত ভোটের হিসাব পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মেলানোর কড়া নির্দেশ দেওয়া হতে পারে রবিবারের বৈঠকে।
নেত্রী স্পষ্ট ভাষায় কর্মীদের জানিয়ে দিতে পারেন যে, গণনার কাজ সম্পূর্ণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এবং রিটার্নিং অফিসারের চূড়ান্ত স্বাক্ষর না মেলা পর্যন্ত কোনও অবস্থাতেই কোনও এজেন্ট যেন গণনাকেন্দ্রের বাইরে পা না রাখেন। অতীতে অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে, প্রাথমিক ট্রেন্ড নিজেদের দিকে এলেই অনেক এজেন্ট অতি-আত্মবিশ্বাসী হয়ে কেন্দ্র ছেড়ে বেরিয়ে যান। এবার সেই প্রবণতায় রাশ টানতেই এই কড়া বার্তা দেওয়া হতে পারে শীর্ষ নেতৃত্বের তরফ থেকে।
দ্বিতীয়ত, এলাকার কাউন্সিলরদের জন্য থাকছে বিশেষ নির্দেশিকা। ভোটগণনার দিন এলাকার পরিস্থিতি যাতে সম্পূর্ণ শান্ত থাকে, সেদিকে কড়া নজর রাখতে বলা হবে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। জয়ের ব্যাপারে দল যতই আত্মবিশ্বাসী হোক না কেন, ফল ঘোষণার পর কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা, বিজয় মিছিলের নামে এলাকায় অশান্তি বা বিরোধীদের ওপর হামলার ঘটনা যে দল একেবারেই বরদাস্ত করবে না, সে কথাও মনে করিয়ে দেওয়া হতে পারে। সাধারণ মানুষের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেদিকে খেয়াল রেখেই সংযতভাবে জয়ের আনন্দ উদযাপন করার নির্দেশ আসতে পারে।


Recent Comments