রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতিতে ফের একবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে পরিস্থিতি। বিশেষ করে বারুইপুর (Baruipur) কাণ্ড নিয়ে যে তোলপাড় চলছে, তার আঁচ এখন পৌঁছেছে একেবারে হাই কোর্টের অন্দরে। রাজ্যের সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার প্রতিবাদে রাস্তায় নামার জন্য অনুমতি চেয়ে কলকাতা হাই কোর্টের (Kolkata High Court) দ্বারস্থ হয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি নিয়ে যখন বিরোধী দলগুলো ক্রমাগত আক্রমণ শানিয়ে যাচ্ছে, তখন তৃণমূলের এই পদক্ষেপ বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বারুইপুরের এই ঘটনাটি নিয়ে জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই আইনি পদক্ষেপ একদিকে যেমন রাজনৈতিক কৌশল, তেমনই অন্যদিকে জনমতের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখার একটি প্রচেষ্টা বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
ঘটনার সূত্রপাত সোমবার। বারুইপুর কাণ্ডের প্রতিবাদে কালীঘাটে একটি মোমবাতি মিছিল করেছিলেন মমতা। সেই মিছিলে মানুষের অংশগ্রহণ ও ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ স্পষ্ট ছিল। তবে রাজপথে বড় কোনো জমায়েত বা মিছিল করতে হলে পুলিশের অনুমতির প্রয়োজন হয়। সম্ভবত সেই অনুমতি পাওয়া নিয়ে জটিলতার আশঙ্কায় বা আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করতে তিনি সরাসরি আদালতের সাহায্য নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
অনেকেই অতীত স্মৃতি হাতড়ে বলছেন, অভয়া কাণ্ডের সময় যখন রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঝড় উঠেছিল, তখন মুখ্যমন্ত্রীর ‘উৎসব’-এর বার্তাকে ঘিরে তীব্র সমালোচনা হয়েছিল। সেই পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা নিয়েই হোক কিংবা পরিস্থিতির চাপে, বারুইপুর কাণ্ডে প্রতিবাদী সুর বজায় রাখতে তিনি মরিয়া। তাই এবার কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সোজা বিচার ব্যবস্থার শরণাপন্ন হলেন তৃণমূল নেত্রী।
এদিকে, এই ইস্যুতে ইতিমধ্যেই রাজ্য রাজনীতিতে কথার লড়াই শুরু হয়েছে। বিরোধীরা একে ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করলেও, শাসক দল দাবি করছে, তারা জনগণের পাশে থাকতেই পথে নামতে চায়। বারুইপুরের ঘটনাটি অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায়, এর রাজনৈতিক মোকাবিলা কোন পথে এগোয়, তা এখন দেখার বিষয়।
হাই কোর্ট এই আবেদনের প্রেক্ষিতে কী নির্দেশ দেয়, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামীতে রাজ্যের রাজপথের লড়াইয়ের রূপরেখা। যদি আদালত অনুমতি দেয়, তবে তৃণমূলের পক্ষ থেকে বড় কোনো কর্মসূচি নেওয়া হতে পারে, যা শাসক ও বিরোধীদের দ্বৈরথকে আরও তুঙ্গে নিয়ে যাবে। এখন শহরের সব মহলের নজর আদালতের দিকে।


Recent Comments