প্রতি বছর ২৯ সেপ্টেম্বর পালিত হয় বিশ্ব হার্ট দিবস। এই দিনটি হৃদ্যন্ত্রের স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার কথাও মনে করিয়ে দেয়। বর্তমানে ভারতে বাড়িতে নমুনা সংগ্রহ, একই দিনে অ্যাপয়েন্টমেন্ট এবং বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য পরীক্ষার সুবিধা থাকায় হৃদ্স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। তবে কোন পরীক্ষা প্রয়োজন, রিপোর্টে থাকা বিভিন্ন মানের অর্থ কী এবং তার পর কী করা উচিত—এই বিষয়গুলিই অনেকের কাছে এখনও জটিল।
হৃদ্স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর আগে নিজের বয়স, পারিবারিক ইতিহাস, আগে থেকে থাকা শারীরিক সমস্যা, ওষুধ সেবনের বিষয়, জীবনযাপন এবং কোনও উপসর্গ রয়েছে কি না—এসব বিবেচনা করা প্রয়োজন। একই বয়সের দু’জন মানুষের ক্ষেত্রেও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ধরন এক নাও হতে পারে। তাই শুধুমাত্র বয়সের ভিত্তিতে পরীক্ষা বেছে নেওয়ার বদলে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
হৃদ্স্বাস্থ্যের রিপোর্টে সাধারণত HDL, LDL, ট্রাইগ্লিসারাইড এবং ApoB-এর মতো বিভিন্ন মান উল্লেখ থাকে। রিপোর্টে কোনও মান স্বাভাবিক সীমার বাইরে থাকলে সেটি দেখে অনেকেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। কিন্তু শুধু একটি সংখ্যার ভিত্তিতে পরিস্থিতি বোঝা সবসময় সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির পারিবারিক ইতিহাস, ওষুধ এবং অন্যান্য শারীরিক অবস্থার ওপরও বিষয়টি নির্ভর করতে পারে।
উদাহরণ হিসেবে, কারও LDL-এর মাত্রা ১৪৮ হলে সেটির অর্থ কী এবং এখনই কোনও পদক্ষেপ প্রয়োজন কি না—তা নির্ধারণে শুধুমাত্র সংখ্যাটি যথেষ্ট নয়। ব্যক্তির স্বাস্থ্য-ইতিহাস এবং অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার প্রয়োজন হতে পারে। কোনও ক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন হতে পারে, আবার কোনও ক্ষেত্রে কিছুদিন পর পুনরায় পরীক্ষা বা জীবনযাত্রায় পরিবর্তনের পরামর্শ দেওয়া হতে পারে।
এই জায়গায় রিপোর্টের তথ্য সহজ ভাষায় বোঝার জন্য Ask Apollo-এর মতো স্বাস্থ্যসেবা প্ল্যাটফর্মের সাহায্য নেওয়া যায়। এটি ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য, প্রেসক্রিপশন, পূর্বের পরামর্শ এবং অন্যান্য উপলব্ধ তথ্যের ভিত্তিতে রিপোর্টের বিভিন্ন বিষয় ব্যাখ্যা করার জন্য তৈরি। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্যপরীক্ষার দিকে যাওয়ার পথও দেখাতে পারে।
হৃদ্স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে পরীক্ষা করানো বা রিপোর্ট বোঝার পরের ধাপটিও গুরুত্বপূর্ণ। রক্তে কোলেস্টেরল, রক্তে শর্করা বা রক্তচাপের মতো বিভিন্ন মানের অর্থ সহজ ভাষায় বোঝা এবং কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন তা জানা জরুরি। একই সঙ্গে প্রেসক্রিপশনে থাকা ওষুধ কীভাবে এবং কখন খেতে হবে, কী বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে এবং অন্য ওষুধের সঙ্গে তার কোনও পারস্পরিক প্রভাব রয়েছে কি না—এসব বিষয়ও চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী জানা প্রয়োজন।
তবে কোনও ডিজিটাল স্বাস্থ্যসেবা বা অনলাইন তথ্য চিকিৎসকের বিকল্প নয়। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শই গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব হার্ট দিবসে তাই শুধু পরীক্ষা করানো নয়, নিজের রিপোর্ট ও স্বাস্থ্য পরিস্থিতি সম্পর্কে সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজন হলে সময়মতো চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার বার্তাই সামনে আসছে।


Recent Comments