ফলতার পুনর্নির্বাচনের পর থেকেই কার্যত উধাও হয়ে গিয়েছিলেন তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গির খান। রাজনৈতিক মহল থেকে প্রশাসন— সর্বত্রই প্রশ্ন উঠছিল, কোথায় লুকিয়ে রয়েছেন ফলতার বহুচর্চিত ‘পুষ্পা’? অবশেষে সেই জল্পনার অবসান। বাংলা-নেপাল সীমান্ত লাগোয়া এলাকা থেকে জাহাঙ্গির খানকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ। তদন্তকারীদের দাবি, নেপালে পালিয়ে গিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাসের পরিকল্পনাও করে ফেলেছিলেন তিনি।
সূত্রের খবর, নির্বাচনের আগেই জাহাঙ্গির বুঝতে পারেন যে তদন্তের জাল ক্রমশ তাঁর দিকে এগিয়ে আসছে। তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একের পর এক গ্রেপ্তার করা হচ্ছিল। এরপরই এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রথমে মোবাইল নম্বর বদল, তারপর পরিচিত যোগাযোগ প্রায় বিচ্ছিন্ন করে দেন। দীর্ঘদিন ধরেই তাঁর খোঁজে একাধিক টিম গঠন করে তদন্ত চালাচ্ছিল এসটিএফ ও গোয়েন্দারা।
ম্যানুয়াল ইনপুটের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত নজরদারির মাধ্যমেও জাহাঙ্গিরের অবস্থান জানার চেষ্টা চলছিল। অবশেষে কয়েকদিন আগে তদন্তকারীদের হাতে আসে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। জানা যায়, বাংলা-নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে ভাড়া বাড়িতে থাকছেন তিনি। শুধু আত্মগোপনই নয়, নেপালেই স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার প্রস্তুতিও শুরু করেছিলেন বলে দাবি তদন্তকারীদের। এমনকি সন্তানদের নেপালের স্কুলে ভর্তি করানোর পরিকল্পনাও চলছিল। সেই সংক্রান্ত কিছু নথিও উদ্ধার হয়েছে বলে সূত্রের খবর।
এই তথ্য হাতে পেয়েই সীমান্ত এলাকায় গোপন অভিযান চালায় বেঙ্গল এসটিএফ। শেষ পর্যন্ত সেখান থেকেই গ্রেপ্তার করা হয় জাহাঙ্গির খানকে। তদন্তকারীদের মতে, সীমান্ত পার করে নেপালে পালানোর আগেই তাঁকে আটক করা সম্ভব হয়েছে।
ফলতার এই জাহাঙ্গির খান দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কের কেন্দ্রে ছিলেন। স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকায় ত্রাসের পরিবেশ তৈরি করে দাপট চালাত তাঁর গোষ্ঠী। সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার পর্যন্ত বাধাগ্রস্ত হত বলেও অভিযোগ উঠেছিল বারবার। পুনর্নির্বাচনের সময় নিজেকে ‘পুষ্পা’ বলে পরিচয় দিয়ে আলোচনায় উঠে আসেন তিনি। প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন, তিনি কোনওদিন মাথা নোয়াবেন না। কিন্তু ভোটের ঠিক আগে আচমকাই প্রার্থীপদ প্রত্যাহার করে এলাকা ছাড়েন জাহাঙ্গির। তারপর থেকেই কার্যত অন্তরালে চলে যান তিনি।
রাজনৈতিক মহলে তখন থেকেই জল্পনা শুরু হয়েছিল, গ্রেপ্তার এড়াতেই কি আত্মগোপনে গিয়েছেন জাহাঙ্গির? অবশেষে সেই জল্পনাই সত্যি হল। দীর্ঘদিন পালিয়ে থেকেও শেষরক্ষা হল না ফলতার ‘পুষ্পা’র। নেপালে আশ্রয় নেওয়ার পরিকল্পনা ভেস্তে দিয়ে শেষ পর্যন্ত তাঁকে গ্রেপ্তার করল বেঙ্গল এসটিএফ।


Recent Comments