জীবাশ্ম (Fossils) বলতে সাধারণত আমরা ডাইনোসর বা প্রাচীন কোনো প্রাণীর হাড়গোড় বুঝি। এমনকি প্রাচীন প্রাণীদের বিষ্ঠার জীবাশ্মও এর আগে আবিষ্কার করেছেন বিজ্ঞানীরা। কিন্তু এবার এমন এক জীবাশ্মের হদিস মিলেছে, যা রীতিমতো চমকে দিয়েছে গবেষকদের। জার্মানির (Germany) ব্রোম্যাকার প্যালিয়োন্টোলজিক্যাল সাইটে (Bromacker Paleontological Site) উদ্ধার হয়েছে ২৯ কোটি বছর আগের কোনো এক প্রাণীর বমির জীবাশ্ম (Fossilised Vomit)! আর এই বমির সূত্র ধরেই উঠে এসেছে প্রাচীন পৃথিবীর শিকারি প্রাণীদের খাদ্যাভ্যাসের অজানা সব তথ্য।
কীভাবে বোঝা গেল এটি বমি? বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ব্রোম্যাকারের ওই শিলাস্তরের বয়স প্রায় ২৯ কোটি বছর। সেখান থেকে বেশ কিছু হাড়ের দলার একটি অদ্ভুত জীবাশ্ম উদ্ধার হয়। প্রাথমিক দর্শনে এটিকে বিষ্ঠা বলে মনে হলেও, গবেষকরা নিশ্চিত করেন যে এটি বিষ্ঠা নয়, বরং উগরে দেওয়া বমি। কারণ: ১. বিষ্ঠা হলে ব্যাকটেরিয়ার কারণে তাতে ফসফরাসের (Phosphorus) পরিমাণ বেশি থাকত। কিন্তু মাইক্রো-এক্সআরএফ (Micro-XRF) পরীক্ষা করে দেখা যায়, এতে কোনো ফসফরাস নেই। ২. জীবাশ্মটির থ্রিডি সিটি স্ক্যান (3D CT Scan) করে দেখা যায়, এর মধ্যে তিন ধরনের প্রাণীর হাড় রয়েছে।
বমির ভেতরে কী ছিল? সিটি স্ক্যানে যে তিনটি প্রাণীর হাড়ের অস্তিত্ব মিলেছে, সেগুলি হলো:
- একটি চারপেয়ে সরীসৃপ।
- একটি দ্বিপদ (দু’পেয়ে) সরীসৃপ।
- বড় কোনো তৃণভোজী প্রাণীর হাত বা পায়ের হাড়।
বিজ্ঞানীদের অনুমান, কোনো এক বিশাল শিকারি স্তন্যপায়ী প্রাণী এই তিন প্রাণীকে শিকার করে খেয়েছিল, কিন্তু হজম করতে না পেরে পরে তা বমি করে উগরে দেয়।
কে ছিল সেই শিকারি? ব্রোম্যাকার অঞ্চলে এর আগেও বেশ কিছু প্রাচীন প্রাণীর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। বমির আকার এবং ভেতরে থাকা হাড়ের ধরন দেখে বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, এই বিশাল খাদক প্রাণীটি হয়তো ‘ডিমেট্রোডন’ (Dimetrodon) বা ‘টাম্বাকার্নিফেক্স’ (Tambacarnifex) গোত্রের কেউ হবে।
এই বিরল আবিষ্কার শুধু সেই প্রাণীর ‘মেনু’ বা খাদ্যাভ্যাসই প্রকাশ্যে আনেনি, বরং ২৯ কোটি বছর আগের ওই অঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র (Ecosystem) এবং প্রাণীজগতের সহাবস্থান নিয়ে এক নতুন দিগন্ত খুলে দিয়েছে। বিজ্ঞানীদের কাছে এই বমি এখন অমূল্য রত্ন!
