back to top
Wednesday, April 29, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিপার্থ চট্টোপাধ্যায়: ‘বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো…’, ভোট না দিয়ে বাড়িতে বসে...

পার্থ চট্টোপাধ্যায়: ‘বিরোধী দলের সঙ্গে সম্পর্ক ভালো…’, ভোট না দিয়ে বাড়িতে বসে বোমা ফাটালেন পার্থ

শহরের আকাশে তখন ভোটের পারদ তুঙ্গে। ভারত (India) জুড়ে যখন সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরা নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে ব্যস্ত, তখন এক অন্যরকম চিত্র ধরা পড়ল কলকাতা (Kolkata) শহরের এক প্রান্তে। নিজের বিধানসভা কেন্দ্র বেহালা পশ্চিম (Behala Paschim) এলাকার একসময়ের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা এবং রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় (Partha Chatterjee) এবার ভোটকেন্দ্রে গেলেন না। তবে বুথে না গেলেও, বাড়িতে বসেই রাজ্য রাজনীতিতে আক্ষরিক অর্থেই এক বিরাট বোমা ফাটালেন এই বর্ষীয়ান তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress) বিধায়ক।

দীর্ঘ আইনি জটিলতা পেরিয়ে তিনি বর্তমানে বাড়িতেই রয়েছেন। কিন্তু ভোটের দিন কেন তিনি নিজের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে গেলেন না, তা নিয়ে সকাল থেকেই বিভিন্ন মহলে জোর জল্পনা ছিল। সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা যখন তাঁর বাসভবনের সামনে ভিড় জমান, তখন নিজের ঘরে বসেই তিনি অত্যন্ত শান্ত ও হাসিমুখে এমন কিছু মন্তব্য করেন, যা শুনে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদেরও রীতিমতো চমকে ওঠার জোগাড়।

সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের উত্তরে পার্থবাবু অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণভাবে জানান, “বিরোধী দলের সঙ্গে আমার সম্পর্ক বরাবরই বেশ ভালো।” এই একটি মাত্র বাক্যই যেন ঘুম উড়িয়েছে রাজ্যের শাসক দলের অন্দরমহলের। যে মানুষটি একটা দীর্ঘ সময় ধরে শাসক দলের অন্যতম প্রধান কাণ্ডারী ছিলেন, যাঁকে ঘিরে দলের অন্দরে একসময় প্রবল উন্মাদনা দেখা যেত, সেই তিনিই আজ নিজের দলের থেকে দূরত্ব বজায় রেখে বিরোধীদের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা প্রকাশ্যে আনছেন কেন? এই প্রশ্নই এখন সবচেয়ে বড় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, তাঁর এই মন্তব্য নেহাত কোনো সাধারণ কথা নয়। জেলবন্দি থাকার সময় দলের একাংশের তাঁর প্রতি যে চূড়ান্ত উদাসীনতা এবং দূরত্ব বজায় রাখার প্রবণতা দেখা গিয়েছিল, এটা হয়তো তারই এক প্রচ্ছন্ন জবাব। নিজের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এবং প্রাসঙ্গিকতা যে এত সহজে ফুরিয়ে যায়নি, সেটাই যেন অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে মনে করিয়ে দিতে চাইলেন তিনি।

আরো পড়ুন:  Malda Incident: ফের মালদাকাণ্ডে নিজেদের সম্পর্ক নেই বলে সভায় দাবি মমতার, তোপ ‘মোটাভাই’কে

এদিন তাঁকে সরাসরি ভোটকেন্দ্রে না যাওয়ার কারণ জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি স্পষ্ট কোনো উত্তর দেননি। শারীরিক অসুস্থতা বা বিশ্রামের কথা বলা হলেও, তাঁর শারীরিক ভাষা এবং সাবলীল কথা বলার ধরন অন্য কোনো সুদূরপ্রসারী ইঙ্গিত দিচ্ছিল। অনেকেই মনে করছেন, বর্তমান পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নিজেকে আপাতত কিছুটা আড়ালে রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে শারীরিকভাবে আড়ালে থেকেও যে রাজনৈতিকভাবে খবরের শিরোনামে থাকতে তিনি ভালোভাবেই জানেন, তা তাঁর আজকের এই পদক্ষেপেই প্রমাণিত।

প্রাক্তন মন্ত্রীর এই মন্তব্যের পর বিরোধী শিবির থেকেও নানারকম প্রতিক্রিয়া আসতে শুরু করেছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ বলছেন, শাসক দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবার বোধহয় আরও একবার প্রকাশ্যে চলে আসতে শুরু করেছে। আবার কারও মতে, এই বর্ষীয়ান নেতা হয়তো ভবিষ্যতের জন্য নতুন কোনো রাজনৈতিক সমীকরণের রাস্তা খোলা রাখছেন। বিরোধী দলের নেতারাও তাঁর এই মন্তব্যের পর পরিস্থিতি বেশ সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছেন। একসময়ের দাপুটে নেতার এই আকস্মিক “বোমা” আগামী দিনে শাসক শিবিরের জন্য কতটা অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াবে, তা সময়ই বলবে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments