Thursday, February 26, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeদেশসংসদের 'প্রশ্নবাণ' থেকেও মুক্তি! PM CARES নিয়ে আর কোনো জবাবদিহি নয়, সাফ...

সংসদের ‘প্রশ্নবাণ’ থেকেও মুক্তি! PM CARES নিয়ে আর কোনো জবাবদিহি নয়, সাফ জানাল প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর

PM CARES ফান্ড নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে হাজারও প্রশ্ন। কিন্তু সেই সব প্রশ্নের উত্তর কি এবার অধরাই থেকে যাবে? সংসদের বাজেট অধিবেশনের মাঝেই সামনে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর বা PMO থেকে লোকসভা সচিবালয় (Lok Sabha Secretariat)-কে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে সাংসদরা আর PM CARES, প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) বা জাতীয় প্রতিরক্ষা তহবিল (NDF) নিয়ে কোনো প্রশ্ন করতে পারবেন না। অর্থাৎ, এই তহবিলগুলো এখন সংসদীয় বাদানুবাদের বা Parliamentary Scrutiny-র ঊর্ধ্বে।

কেন এই নিষেধাজ্ঞা? সূত্রের খবর, গত ৩০ জানুয়ারি PMO থেকে একটি নোট পাঠানো হয় লোকসভা সচিবালয়ে। সেখানে লোকসভার কার্যপ্রণালী বিধির ৪১(২)(৮) এবং ৪১(২)(১৭) ধারা (Rule 41 of Lok Sabha Rules) উল্লেখ করে বলা হয়েছে, এই ফান্ডগুলো ভারত সরকারের কনসলিডেটেড ফান্ড (Consolidated Fund of India) বা রাজকোষের টাকায় তৈরি নয়। এগুলি পুরোপুরি ‘স্বেচ্ছাসেবী অনুদান’ বা Voluntary Contribution-এর ওপর নির্ভরশীল। তাই এই ফান্ডগুলো নিয়ে সরকারের কোনো প্রত্যক্ষ দায়বদ্ধতা নেই এবং সংসদে এ নিয়ে প্রশ্ন তোলা ‘অগ্রহণযোগ্য’ (Inadmissible)।

বিরোধী ও সমাজকর্মীদের ক্ষোভ: সরকারের এই অবস্থানে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বিরোধী শিবির এবং আরটিআই (RTI) কর্মীরা। সমাজকর্মী অঞ্জলি ভরদ্বাজ (Anjali Bharadwaj) একে ‘ইলেক্ট্রোরাল বন্ড ২.০’ (Electoral Bonds 2.0) বলে কটাক্ষ করেছেন। বিরোধীদের প্রশ্ন, প্রধানমন্ত্রী নিজে যেখানে এই ফান্ডের এক্স-অফিসিও চেয়ারম্যান (Ex-officio Chairman) এবং স্বরাষ্ট্র, অর্থ ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীরা এর ট্রাস্টি, সেখানে সরকার কীভাবে দায় এড়াতে পারে? তাদের মতে, হাজার হাজার কোটি টাকার হিসেব না দেওয়াটা আসলে গণতন্ত্রের স্বচ্ছতার পরিপন্থী।

আদালতের রায় ও বিতর্ক: এর আগেও দিল্লি হাইকোর্ট (Delhi High Court) এক রায়ে জানিয়েছিল, PM CARES ফান্ডকে ‘পাবলিক অথরিটি’ (Public Authority) হিসেবে গণ্য করা হলেও, আরটিআই আইনের আওতায় এর গোপনীয়তা বজায় রাখার অধিকার রয়েছে। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষ চাইলেই এর ভেতরের খবর জানতে পারবেন না। এবার সংসদের দরজা বন্ধ হওয়ায়, এই ফান্ডের স্বচ্ছতা নিয়ে ধোঁয়াশা আরও বাড়ল বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আরো পড়ুন:  বাজেটের জবাবেও 'ভোটের অঙ্ক' নির্মলার! তামিলনাড়ু-বাংলার দিকে আঙুল তুলতেই পাল্টা খোঁচা ডেরেকের

জনগণ বিপদে পড়লে যে ফান্ডে মুক্তহস্তে দান করে, তার হিসেব চাওয়ার অধিকার কি তাদের নেই? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজধানী দিল্লির অলিন্দে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments