প্রাথমিক পর্যায়ের জনগণনার কাজ শেষ হওয়ার পর রিপোর্ট জমা পড়তেই উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। অভিযোগ, রায়গঞ্জ থানার ৩ নম্বর মহিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কান্তোর গ্রামটি সম্পূর্ণভাবে জনগণনার প্রক্রিয়া থেকে বাদ পড়েছে। গ্রামে প্রায় ৩০ থেকে ৪০টি পরিবারের বসবাস থাকলেও আশপাশের এলাকায় গণনার কাজ হলেও কান্তোরে কোনো জনগণনা কর্মী পৌঁছাননি বলে দাবি বাসিন্দাদের।
এই ঘটনায় স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়ছে গ্রামবাসীদের মধ্যে। তাঁদের আশঙ্কা, জনগণনার সরকারি নথিতে গ্রামের নাম না থাকলে ভবিষ্যতে বিভিন্ন সরকারি সুযোগ-সুবিধা পাওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পাশাপাশি নিজেদের পরিচয়, নাগরিকত্ব এবং বসতভিটা নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বক্তব্য, জনগণনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রক্রিয়ায় একটি গোটা গ্রাম বাদ পড়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তাঁদের দাবি, এর ফলে ভবিষ্যতে এলাকার উন্নয়নমূলক কাজেও প্রভাব পড়তে পারে। নথিভুক্তির অভাবে ভিটেমাটি নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কাও করছেন অনেকে।
স্থানীয় বিএলও অসিত কুমার বর্মন জানান, তিনি পাশের মহিপুর গ্রামে জনগণনার কাজে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু কান্তোর গ্রামে কোনো কর্মী পৌঁছাননি বলে তিনি জানতে পেরেছেন। বিষয়টি নিয়ে তিনিও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন মহিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান দীপক বর্মন। তাঁর দাবি, গণনাকারীদের কাজের এলাকা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণেই এই সমস্যা হয়েছে। তিনি জানান, জনগণনার কাজে আরও সতর্কতা ও দায়িত্বশীলতার প্রয়োজন ছিল।
পঞ্চায়েত প্রধান আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। দ্রুত কান্তোর গ্রামে ফের জনগণনার কাজ শুরু করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এখন প্রশাসনের উদ্যোগের দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন গ্রামের বাসিন্দারা।


Recent Comments