বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট শেষ হতেই ফের কাজের খোঁজে ভিনরাজ্যের উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন হাজার হাজার পরিযায়ী শ্রমিক। আর সেই যাত্রাকে কেন্দ্র করে মুর্শিদাবাদ ও সংলগ্ন এলাকার একাধিক রেলস্টেশনে তৈরি হয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা ও যাত্রীভোগান্তি।জঙ্গিপুর, সাগরদিঘির মোরগ্রাম এবং ফরাক্কা স্টেশনে প্রতিদিনই উপচে পড়ছে যাত্রীদের ভিড়।
ট্রেনে ওঠাকে কেন্দ্র করে শুরু হচ্ছে হুড়োহুড়ি, ধাক্কাধাক্কি, এমনকি হাতাহাতির ঘটনাও ঘটছে। সোমবার জঙ্গিপুর স্টেশনে সিট নিয়ে বিবাদ থেকে দুই পক্ষের মধ্যে মারপিটের ঘটনা ঘটে। তাতে এক যাত্রী আহত হন এবং তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, এবং সেই ভিডিও ইতিমধ্যেই সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভোটের আগে বহু পরিযায়ী শ্রমিক নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে বাড়ি ফিরেছিলেন। ভোট মিটতেই তাঁরা দ্রুত কর্মস্থলে ফেরার তাড়ায় স্টেশনে ভিড় জমাচ্ছেন। এর পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের চাপও থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।স্টেশন চত্বরে দীর্ঘ লাইন, প্ল্যাটফর্মে তিল ধারণের জায়গা নেই। ট্রেন ঢুকতেই কামরায় ওঠার জন্য শুরু হচ্ছে প্রবল ঠেলাঠেলি। এই পরিস্থিতিতে বয়স্ক, মহিলা ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি বিপদের মুখে পড়ছেন। অনেকেই আগাম টিকিট কেটে রেখেও ট্রেনে উঠতে পারছেন না। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষার পরও বহু যাত্রী খালি হাতে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হচ্ছেন।
মোরগ্রাম স্টেশনে ট্রেন ধরতে আসা এক যাত্রী জানান, আগের দিন ভিড়ের কারণে ট্রেনে উঠতে পারেননি, আজও একই অবস্থা। সামনে ঈদের আগে কাজে ফিরতে না পারলে বড় সমস্যায় পড়তে হবে বলেও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।যাত্রীদের অভিযোগ, ভোটের সময় বাড়তি ভিড়ের কথা মাথায় রেখে বিশেষ ট্রেন চালানোর কথা বলা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে সাধারণ ট্রেনগুলিতেই যাত্রীচাপ কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে।
রেলের এক আধিকারিক জানান, ভোটের কারণে এত বড় সংখ্যায় যাত্রী ফিরবেন, তা অনুমান করা যায়নি। কিছু বিশেষ ট্রেন চালানো হলেও পরিস্থিতি সামাল দিতে তা যথেষ্ট নয়। আরও ট্রেন চালানোর বিষয়ে ভাবনাচিন্তা চলছে।

Recent Comments