মানবিকতা আর ভালোবাসার এক অনন্য দৃষ্টান্ত দেখা গেল মালদার কাদিরপুর কিরণময়ী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। নিজের ছেলের বিয়ের আনন্দ ভাগ করে নিতে স্কুলের সব ছাত্র-ছাত্রীদের মাংস-ভাত খাইয়ে নজির গড়লেন বিদ্যালয়ের রাঁধুনি চপলা মণ্ডল।প্রায় ৬০ বছর বয়সী চপলা দেবী দীর্ঘদিন ধরে ওই স্কুলের মিড-ডে মিলের রান্নার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। সম্প্রতি তাঁর একমাত্র ছেলে বাপি মণ্ডলের বিয়ে হয়। বাড়ির অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর তাঁর মনে হয়, যেসব খুদে পড়ুয়াদের তিনি প্রতিদিন নিজের হাতে রান্না করে খাওয়ান, তাদের সঙ্গেও এই খুশি ভাগ করে নেওয়া উচিত।
সেই ভাবনা থেকেই নিজের খরচে স্কুলের সকল ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ ভোজের আয়োজন করেন তিনি।বুধবার স্কুলে মিড-ডে মিলের মেনুতে ছিল একেবারে ভিন্ন চমক। পড়ুয়াদের পাতে পরিবেশন করা হয় গরম ভাত, ডাল, সবজি, মাংস ও চাটনি। প্রতিদিনের সাধারণ খাবারের বদলে এমন আয়োজন পেয়ে খুশিতে আত্মহারা হয়ে পড়ে শিশুরা। স্কুল চত্বর মুহূর্তেই যেন উৎসবের রূপ নেয়।চপলা মণ্ডল বলেন, “এই বাচ্চারা আমার নিজের নাতি-নাতনির মতো। ছেলের বিয়ের আনন্দ ওদের সঙ্গে ভাগ করে না নিলে মন ভরত না। ওদের হাসিমুখই আমার সবচেয়ে বড় সুখ।”
এই উদ্যোগে খুশি বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকারা এবং অভিভাবকরাও। প্রধান শিক্ষক তনয় কুমার মিশ জানান, “চপলাদির এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়। উনি প্রমাণ করে দিলেন, স্কুল শুধু শিক্ষার জায়গা নয়, এটি এক বড় পরিবার।”এক অভিভাবক বলেন, “আমাদের অনেকেরই প্রতিদিন মাংস খাওয়ানোর সামর্থ্য নেই। দিদির এই ভালোবাসায় বাচ্চারা ভীষণ খুশি হয়েছে।”চপলা মণ্ডলের এই উদ্যোগ শুধু একটি ভোজ নয়, বরং মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তাঁর এই ভালোবাসা ও আন্তরিকতা নিঃসন্দেহে সমাজে এক ইতিবাচক বার্তা পৌঁছে দিচ্ছে।

Recent Comments