back to top
Wednesday, May 6, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিExit Poll: পশ্চিমবঙ্গে বুথ ফেরত জরিপের ফল মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস: আত্মবিশ্বাসী...

Exit Poll: পশ্চিমবঙ্গে বুথ ফেরত জরিপের ফল মানতে নারাজ তৃণমূল কংগ্রেস: আত্মবিশ্বাসী শাসক শিবির

রাজ্যে ভোট গ্রহণ পর্ব মিটতেই শুরু হয়ে গিয়েছে বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোলের হিসাব-নিকাশ। বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল এবং সমীক্ষক সংস্থার প্রকাশিত এই ফলাফলে রাজ্য রাজনীতির এক মিশ্র চিত্র তুলে ধরা হলেও, এই সমস্ত জরিপকে কার্যত ডাস্টবিনে ছুঁড়ে ফেলল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। তাদের স্পষ্ট দাবি, এই ধরনের সমীক্ষা একেবারেই বাস্তবসম্মত নয়। পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) জুড়ে শাসক দলের যে শক্ত ঘাঁটি এবং নীরব ভোটারদের যে সমর্থন রয়েছে, তা এই ধরনের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে তৈরি করা রিপোর্টে কখনোই প্রতিফলিত হয় না।কলকাতা (Kolkata) শহরের বুকে দলের সদর দপ্তরে এক সাংবাদিক সম্মেলনে দলের প্রথম সারির নেতারা এই বিষয়টিতে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতে, ভারত (India) জুড়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম এবং সমীক্ষক সংস্থাগুলি অনেক সময়েই নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের হয়ে প্রচারের কাজ করে। বিশেষ করে দিল্লি (Delhi) ভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলি বাংলার মাটির প্রকৃত অবস্থা এবং মানুষের নাড়ির স্পন্দন বুঝতে বারবার ব্যর্থ হয়েছে। এর আগেও একাধিকবার প্রমাণ হয়েছে যে, বুথফেরত জরিপের সঙ্গে আসল ফলাফলের যোজন যোজন পার্থক্য থাকে। তাই এই সব কাল্পনিক সংখ্যা নিয়ে তৃণমূল নেতৃত্ব মোটেও চিন্তিত নন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের এই আত্মবিশ্বাসের মূল কারণ হল তাদের নিচুতলার মজবুত সংগঠন এবং রাজ্য সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী বা স্বাস্থ্যসাথীর মতো প্রকল্পগুলি বাংলার সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে যে বিপুল প্রভাব ফেলেছে, তা এই সব সমীক্ষায় ঠিকমতো ধরা পড়ে না বলেই দাবি ঘাসফুল শিবিরের। দলের এক প্রবীণ নেতার কথায়, “মানুষ আমাদের পাশে আছেন। আমরা বুথ স্তরের কর্মীদের কাছ থেকে যে রিপোর্ট পেয়েছি, তা এই সব এক্সিট পোলের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা। গণনার দিন ইভিএম খুললে সব হিসেব পাল্টে যাবে।”

তৃণমূলের আরও অভিযোগ, এই বুথফেরত সমীক্ষাগুলি মূলত শহুরে এবং আধা-শহর এলাকার ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়। কিন্তু আসল ভোট বাক্স ভরে গ্রামের সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে। গ্রাম বাংলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে তৃণমূলের যে বিস্তার, তা ভেদ করা বিরোধীদের পক্ষে কার্যত অসম্ভব। সমীক্ষক সংস্থাগুলির কর্মীরা অনেক সময় সেই সব প্রত্যন্ত গ্রামে পৌঁছাতেই পারেন না। ফলে তাদের সংগৃহীত তথ্যে একটি বড়সড় ফাঁক থেকে যায়।দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) বারবারই কর্মী-সমর্থকদের এই ধরনের বিভ্রান্তিকর খবরে কান না দেওয়ার জন্য সতর্ক করেছেন।

আরো পড়ুন:  রাজ্যে শুরু প্রথম দফার ভোটযুদ্ধ: নজরে উত্তরবঙ্গ ও দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলা, বুথে বুথে কড়া নিরাপত্তা

দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কড়া নির্দেশ দিয়েছেন যে, গণনার দিন শেষ রাউন্ড পর্যন্ত স্ট্রং রুমে কড়া নজর রাখতে হবে। কোনোভাবেই যাতে বিরোধীরা বা অন্য কোনো অশুভ শক্তি গণনার কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে, সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক এজেন্টকে।

অতীতের পরিসংখ্যান ঘাটলে দেখা যায়, ২০১৬ বা ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও বেশিরভাগ বুথফেরত সমীক্ষা তৃণমূলের আসন সংখ্যা অনেক কমিয়ে দেখিয়েছিল। এমনকি কিছু কিছু সমীক্ষায় রাজ্যে পালাবদলের কড়া ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তৃণমূল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে স্বমহিমায় ক্ষমতায় ফিরেছে। সেই ইতিহাস মাথায় রেখেই নেতারা বুক ঠুকে বলছেন, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments