রাজ্যে বাজল বিধানসভা নির্বাচনের রণভঙ্কা। আজ, ২৩ এপ্রিল বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হল ২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণ। উত্তরবঙ্গের পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জেলাতেও আজ সকাল থেকে শুরু হয়েছে ভোটদান। গণতন্ত্রের এই উৎসবে সামিল হতে সকাল থেকেই বুথে বুথে ভোটারদের লম্বা লাইন চোখে পড়ছে।
নির্বাচন কমিশন এবারের ভোটে নিরাপত্তায় কোনো খামতি রাখছে না। প্রথম দফার ভোট শান্তিপূর্ণ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কমিশন সূত্রে খবর, এই দফায় মোট ২,৪০৭ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রায় ৫ লক্ষ নিরাপত্তাকর্মী পাহাড় থেকে সমতলে ভোট সামলাতে মোতায়েন রয়েছেন।
নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে মুর্শিদাবাদ জেলাকে। মুর্শিদাবাদের দুই পুলিশ জেলা মিলিয়ে মোট ৩১৬ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এরপরই তালিকায় রয়েছে পূর্ব মেদিনীপুর, যেখানে নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে ২৭৩ কোম্পানি বাহিনী। এছাড়া বাঁকুড়ার ১২টি আসন, পশ্চিম বর্ধমানের ৯টি এবং বীরভূমের ১১টি আসনেও কড়া পাহারায় চলছে ভোটদান।
উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা সহ মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া ও পূর্ব মেদিনীপুরে সকাল ৭টা থেকেই ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। প্রথম এক-দু’ঘণ্টার মধ্যে ভোটারদের ভালোই উৎসাহ লক্ষ্য করা গেছে। মহিলা এবং নতুন ভোটারদের ভিড়ও বুথ চত্বরে উল্লেখযোগ্য। উত্তরবঙ্গের জেলাগুলিতে চা-বলয় থেকে শুরু করে দক্ষিণবঙ্গের কৃষিপ্রধান এলাকা— সর্বত্রই কড়া রোদের তাপ বাড়ার আগেই নিজেদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে বুথমুখী হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
অশান্তি এড়াতে বুথগুলিতে ওয়েব কাস্টিং এবং ড্রোনের মাধ্যমে নজরদারি চালানো হচ্ছে। স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা রুট মার্চ করছেন। তবে সকালের দিকে দু-একটি জায়গা থেকে ইভিএম বিভ্রাটের খবর এলেও তা দ্রুত মেরামত করে পুনরায় ভোটগ্রহণ শুরু করা হয়েছে।বিকেল পর্যন্ত ভোটের হার কোন পর্যায়ে পৌঁছায় এবং দিনভর ভোটপ্রক্রিয়া কতটা শান্তিপূর্ণ থাকে, সেদিকেই নজর রয়েছে রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments