রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারীর আকস্মিক ও রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই ঘটনায় সরাসরি প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। তাঁর দাবি, এই মৃত্যু নিছক কোনো দুর্ঘটনা নাও হতে পারে। এর নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার প্রয়োজন আছে বলে তিনি মনে করেন।
এদিন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিরোধী দলনেতার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত এক কর্মীর এভাবে চলে যাওয়া স্বাভাবিক নয়। তাঁর কথায়, যেভাবে এই ঘটনাটি ঘটেছে, তার প্রেক্ষিত এবং সময় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। পশ্চিমবঙ্গ এখন এমন এক রাজ্যে পরিণত হয়েছে যেখানে বিরোধী দলের কর্মীদের নিরাপত্তা কার্যত শূন্য। এই মৃত্যুর সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া জরুরি।
বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে বিরোধীদের ওপর মানসিক ও শারীরিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে। শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়েছেন, যে পরিস্থিতিতে শুভেন্দুর সহকারীর মৃত্যু হয়েছে, তাতে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তাঁরা সন্তুষ্ট নন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সত্য উদ্ঘাটনের জন্য বিজেপি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত বা কেন্দ্রীয় সংস্থার হস্তক্ষেপের দাবিও জানাতে পারে।
শমীক ভট্টাচার্যের মতে, শুভেন্দু অধিকারীকে রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে না পেরে তাঁর ব্যক্তিগত পরিমণ্ডলে আঘাত করার চেষ্টা করা হচ্ছে কি না, সেটা বড় প্রশ্ন। এই ঘটনার পেছনে কোনো প্রভাবশালী হাত রয়েছে কি না, তা পুলিশকে স্পষ্ট করতে হবে।
অন্যদিকে, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৃণমূল ও বিজেপির মধ্যে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে উঠেছে। শাসক শিবিরের পক্ষ থেকে যদিও সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবে শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া মন্তব্য রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ বাড়িয়েছে।
বিরোধী শিবির মনে করছে, এই ইস্যুটিকে কেন্দ্র করে আগামী দিনে বিধানসভার ভেতরে ও বাইরে আন্দোলনের ঝাঁজ আরও বাড়াবে বিজেপি। এখন দেখার, এই রহস্যমৃত্যুর তদন্ত কোন পথে এগোয়।


Recent Comments