তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে কলকাতার বিধাননগরে দেখা মিলল বীরভূমের সিউড়ির তরুণী অমৃতা সিংহের। তবে মেয়ের সন্ধান পাওয়ার আশার মধ্যেও তৈরি হয়েছে নতুন উদ্বেগ। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতেই মানসিকভাবে বিপর্যস্ত অবস্থায় থাকা অমৃতা সেখান থেকে দৌড়ে পালিয়ে যান বলে জানা গিয়েছে। বর্তমানে বিধাননগর নর্থ থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে পুলিশ।
সিউড়ির ডাঙালপাড়ার বাসিন্দা বছর চব্বিশের অমৃতা সিংহ গত ১৩ মার্চ থেকে নিখোঁজ ছিলেন। দুর্গাপুরের একটি বেসরকারি কলেজ থেকে ফার্মাসিস্টের পড়াশোনা শেষ করে বাড়ি ফিরেছিলেন তিনি। পরিবারের দাবি, বাড়ি ফেরার পর থেকেই অমৃতা বেশ মনমরা থাকতেন। বাবা-মায়ের অসুস্থতা এবং পারিবারিক পরিস্থিতির জেরে তিনি মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন বলেও জানিয়েছেন তাঁর বাবা অর্ধেন্দু সিংহ।
এরপর কাউকে কিছু না জানিয়েই একদিন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান অমৃতা। তারপর থেকেই মেয়েকে খুঁজতে অসুস্থ শরীর নিয়েও পথে পথে ঘুরেছেন তাঁর বাবা। হাতে মেয়ের ছবি দেওয়া প্ল্যাকার্ড নিয়ে মানুষের কাছে সাহায্য চেয়েছেন তিনি। সেই ছবি সোশ্যাল মিডিয়াতেও ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ অমৃতার খোঁজে এগিয়ে আসেন।
সোমবার রাত সাড়ে ১১টা নাগাদ সল্টলেকের ১৩ নম্বর ট্যাঙ্কের কাছে ফুটপাতে লাল কুর্তি ও প্যান্ট পরা এক তরুণীকে শুয়ে থাকতে দেখেন অটোরিকশা চালক সমীর সরদার। মোবাইলে ভাইরাল হওয়া ছবি দেখে তাঁর সন্দেহ হয়, ওই তরুণীই হয়তো নিখোঁজ অমৃতা। তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে ডেকে বিষয়টি নিশ্চিত করার চেষ্টা করেন। পরে সোশ্যাল মিডিয়া থেকে অমৃতার বাবা অর্ধেন্দু সিংহের ফোন নম্বর সংগ্রহ করে তাঁকে খবর দেওয়া হয়।
তরুণীর ছবি ও ভিডিয়ো কল দেখে মেয়েকে চিনতে পারেন অর্ধেন্দুবাবু। খবর পেয়ে তিনি কলকাতার উদ্দেশে রওনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও বিধাননগর সাউথ থানায় খবর দেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাব-ইন্সপেক্টর প্রিয়দর্শন ঘোষের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছনোর পরই অমৃতা আতঙ্কিত হয়ে ছুটতে শুরু করেন। তিনি বিধাননগর নর্থ থানা এলাকার দিকে চলে যান বলে জানা গিয়েছে। সেই সূত্র ধরেই এখন তাঁকে খুঁজছে পুলিশ।
দীর্ঘ তিন মাস পর মেয়ের সন্ধান মিললেও, তাঁকে নিরাপদে বাড়ি ফিরিয়ে আনার অপেক্ষায় রয়েছেন বাবা অর্ধেন্দু সিংহ।


Recent Comments