Ankita Mondal: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাইয়ের বিমানে যে ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে, তা শুনলে শিউরে উঠবেন। ১৭০ জনের বেশি যাত্রী নিয়ে বিমানটিকে ইজরায়েলের মাটিতে নিয়ে গিয়ে ক্র্যাশ করানোর ছক ছিল কো-পাইলটের, এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে তদন্তে।
বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাইয়ের ফ্লাইট FZ1073 দুবাই থেকে তেল আভিভ যাচ্ছিল। বিমানে ছিলেন ১৭০ জনের বেশি যাত্রী, যাদের বেশিরভাগই ইজরায়েলি। মাঝ আকাশে কো-পাইলট আচমকা ককপিটে থাকা ক্র্যাশ অ্যাক্স (জরুরি কুড়ুল) দিয়ে ক্যাপ্টেনের উপর হামলা চালায়।
ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মচ্ছর গুরুতর আহত হওয়া সত্ত্বেও সাহসিকতার সঙ্গে ককপিটের দরজা খুলে দেন। তখন যাত্রী এবং ক্রু সদস্যরা মিলে অভিযুক্ত কো-পাইলটকে কাবু করেন। সেই সময় বিমানটি ১৮,০০০ ফুট নিচে নেমে গিয়েছিল। পরে রিজার্ভ পাইলট ক্রু-র সাহায্যে বিমানটি সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করানো হয়।
অভিযুক্ত কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। তিনি ওমানের নাগরিক। তদন্তে জানা গেছে:
১. আগেই নিষিদ্ধ হয়েছিলেন: ওমানে আগেই তাকে উড়ানের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল। কারণ তার মধ্যে “চরমপন্থী মতাদর্শ” দেখা গিয়েছিল। তাকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
২. সিরিয়ায় মৌলবাদে দীক্ষা: ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ওই পাইলট “ইসলামি মৌলবাদে দীক্ষিত” হয়েছিলেন। জানা গেছে, সিরিয়ায় থাকাকালীন তার মধ্যে এই চরমপন্থী ভাবনা ঢোকে।
৩. স্বীকারোক্তি: সংযুক্ত আরব আমিরশাহির ফেডারেল প্রসিকিউটর ড. হামাদ সইফ আল শামসি জানিয়েছেন, তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কো-পাইলট একটি “সন্ত্রাসবাদী কাজ” করার চেষ্টা করেছিল। জেরায় সে নিজেই স্বীকার করেছে যে, তার উদ্দেশ্য ছিল বিমানটিকে ইজরায়েলের ভূখণ্ডে নিয়ে গিয়ে ক্র্যাশ করানো।
বর্তমানে তাকে সৌদি আরব থেকে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে নিয়ে আসা হয়েছে এবং সে তদন্তকারীদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে। ঘটনার পর ফ্লাইদুবাই তেল আভিভগামী সমস্ত ফ্লাইট আপাতত স্থগিত রেখেছে।

Recent Comments