পশ্চিমবঙ্গের মহিলাদের জন্য সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাতায়াতের যে সুবিধা চালু হয়েছে, তা নিয়ে নতুন করে গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা সামনে এসেছে। গত ১ অগস্ট থেকে রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে ‘পিঙ্ক কার্ড’ পরিষেবা। এই কার্ডের মাধ্যমে নির্দিষ্ট যোগ্যতার মহিলা যাত্রীরা সরকারি বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবেন। তবে এখনও অনেক মহিলার হাতে পিঙ্ক কার্ড পৌঁছয়নি। সেই কারণে আপাতত পরিচয়পত্র দেখিয়েও সরকারি বাসে বিনামূল্যে সফরের সুযোগ মিলছে।
বর্তমানে বাসে ওঠার পর মহিলা যাত্রী বৈধ পরিচয়পত্র দেখালে অন-ডিউটি কন্ডাক্টর সেই পরিচয় যাচাই করছেন। এরপর তাঁকে ‘জিরো ভ্যালু টিকিট’ বা থার্মাল পেপারের টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সেই টিকিটের মাধ্যমেই বিনা ভাড়ায় যাত্রা করা যাচ্ছে। তবে সেপ্টেম্বর মাস শুরু হওয়ার আগে যোগ্য মহিলাদের পিঙ্ক কার্ড তৈরি করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। কারণ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, বিনামূল্যে যাত্রার সুবিধা পেতে কন্ডাক্টরের কাছে বৈধ পিঙ্ক কার্ড দেখাতে হবে এবং টিকিট কাটার আগে মেশিনের মাধ্যমে কার্ডটি যাচাই করা হবে।
এই সুবিধা শুধুমাত্র শহরের বাসে সীমাবদ্ধ নয়। WBTC, SBSTC এবং NBSTC-র সরকারি বাসেও পিঙ্ক কার্ডের মাধ্যমে বিনামূল্যে যাতায়াত করা যাবে। এমনকি দূরপাল্লার সরকারি এসি এবং নন-এসি বাসও এই সুবিধার আওতায় রয়েছে। ফলে সরকারি পরিবহণ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজ্যের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাতায়াত করা মহিলারাও এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে পারেন।
তবে প্রত্যেক মহিলা এই সুবিধা পাবেন না। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, মূলত সীমিত আয়ের পরিবার এবং আর্থিকভাবে পিছিয়ে থাকা মহিলাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ছাত্রী, কর্মজীবী মহিলা এবং প্রতিদিন সরকারি বাসের উপর নির্ভরশীল যাত্রীদের বিশেষভাবে এই প্রকল্পের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। উচ্চ আয়ের পরিবারের মহিলারা এই সুবিধা থেকে বাদ পড়বেন। পাশাপাশি যে কর্মজীবী মহিলারা স্বেচ্ছায় এই সুবিধা নিতে চান না, তাঁদেরও পিঙ্ক কার্ড দেওয়া হবে না।
পিঙ্ক কার্ডের জন্য অনলাইন এবং অফলাইন—দুইভাবেই আবেদন করার সুযোগ রয়েছে। অনলাইনে আবেদন করতে হলে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সরকারি ওয়েবসাইটে গিয়ে ‘Pink Card’ অপশনে প্রবেশ করতে হবে। সেখানে নাম ও মোবাইল নম্বর দিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করার পাশাপাশি আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ছবি এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথির ডিজিটাল কপি জমা দিতে হবে। আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট দফতরের তরফে নথি যাচাই করা হবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আবেদন অনুমোদনের পর পিঙ্ক কার্ড তৈরি করা হবে।
অনলাইনে আবেদন করতে সমস্যা হলে অফলাইনেও আবেদন করা যাবে। পঞ্চায়েত এলাকায় বসবাসকারী মহিলারা সংশ্লিষ্ট BDO অফিসে এবং পুরসভা এলাকায় বসবাসকারী মহিলারা পুরসভা অফিসে গিয়ে আবেদনপত্র সংগ্রহ করতে পারবেন। প্রয়োজনীয় তথ্য পূরণ করে আধার কার্ড, ভোটার কার্ড, ছবি এবং মোবাইল নম্বর-সহ নথি জমা দিতে হবে। এরপর দফতরের তরফে নথি যাচাই করে যোগ্যতা অনুযায়ী কার্ড দেওয়ার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী, পিঙ্ক কার্ড পাওয়ার জন্য আবেদনকারীকে পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা এবং দেশের নাগরিক হতে হবে। তাই সরকারি বাসে নিয়মিত যাতায়াত করেন এবং এই প্রকল্পের যোগ্য বলে মনে করেন এমন মহিলাদের জন্য সেপ্টেম্বরের আগে আবেদন করে রাখা গুরুত্বপূর্ণ। পিঙ্ক কার্ড হাতে থাকলে সরকারি বাসে বিনামূল্যে যাত্রার সুবিধা পেতে পরিচয় যাচাইয়ের প্রক্রিয়াও সহজ হবে।


Recent Comments