“গত সোমবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যর দফতর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রারকে জারি করা একটি বিশেষ নির্দেশ সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার ঘটনা নজরে এসেছে।” বুধবার এই অভিযোগ করেছে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ইউনিটের পক্ষে অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈক্ষিক মহাসঙ্ঘ এবিআরএসএম (উচ্চশিক্ষা বিভাগ)।
এক বিবৃতিতে ওই সংগঠনের তরফে খোদ উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করা হয়েছে, গোপন ও সংবেদনশীল এই নথি রেজিস্ট্রারের দফতরে পৌঁছানোর আগেই সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল।
আমরা এমন তথ্যও পেয়েছি যে, সিপিআই(এম)-এর সঙ্গে যুক্ত এক শিক্ষকনেতা জোরপূর্বক নথিটির ছবি তুলে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করেছেন। অভিযোগগুলির গুরুত্ব বিবেচনা করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং দায় নির্ধারণের স্বার্থে একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত অত্যন্ত জরুরি বলে আমরা মনে করি।
একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি কীভাবে নির্ধারিত ও অনুমোদিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার বাইরে কারও নাগালে এল এবং পরবর্তীকালে কীভাবে তা সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত হলো, তা বিস্তারিতভাবে খতিয়ে দেখা অত্যন্ত প্রয়োজন। এই ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গোপনীয়তা এবং সংবেদনশীল নথিপত্রের নিরাপত্তা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্নের অবতারণা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের গোপনীয় নথি অননুমোদিতভাবে প্রকাশের যেকোনো ঘটনাকে আমরা তীব্রভাবে নিন্দা জানাই এবং এই ঘটনার অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি। প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটন এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার স্বার্থে আমরা নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলি গ্রহণের অনুরোধ জানাচ্ছি:
১. সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ ও পর্যালোচনা: অরবিন্দ ভবনের সম্পূর্ণ অংশের প্রাসঙ্গিক সিসিটিভি ফুটেজ সংরক্ষণ করে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হোক, যাতে ঘটনার ধারাবাহিকতা ও প্রকৃত পরিস্থিতি নির্ধারণ করা যায়।
২. নথিটির গতিবিধি ও হেফাজত সম্পর্কে তদন্ত: নথিটি কখন প্রস্তুত করা হয়েছিল, কারা সেটি দেখার বা নিজেদের হেফাজতে রাখার সুযোগ পেয়েছিলেন, কাদের কাছে নথিটি পাঠানো হয়েছিল এবং কীভাবে সেটি সংগ্রহ করে পরবর্তীকালে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল—এই সমস্ত বিষয়ের বিস্তারিত তদন্ত করা হোক।
৩. সংশ্লিষ্ট সকল ব্যক্তির ভূমিকা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা: ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেক ব্যক্তির ভূমিকা বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হোক। বিশেষত, এই ঘটনায় জড়িত বলে অভিযোগ ওঠা শিক্ষকনেতা-সহ কোনও ব্যক্তির পরিচয়, পদমর্যাদা, রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা বা প্রভাব যেন তদন্তের নিরপেক্ষতা কিংবা তদন্তের ফলাফলকে কোনওভাবেই প্রভাবিত করতে না পারে, তা নিশ্চিত করা হোক।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক গোপনীয়তা, প্রাতিষ্ঠানিক মর্যাদা এবং দাপ্তরিক শৃঙ্খলা রক্ষা করা আমাদের সকলের সম্মিলিত দায়িত্ব। গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক নথি অননুমোদিতভাবে প্রকাশিত হওয়া শুধু সরকারি ও প্রশাসনিক নথিপত্রের নিরাপত্তা নিয়েই গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি করে না, একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, সততা ও বিশ্বাসযোগ্যতার প্রতিও আস্থাকে ক্ষুণ্ণ করে।
উপরোক্ত বিষয়গুলির পরিপ্রেক্ষিতে, আমরা আপনার কাছে সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি, আপনি অবিলম্বে এই বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে একটি দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের ব্যবস্থা করুন, যাতে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটিত হয়, দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করা যায় এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়ম ও বিধি অনুসারে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হয়।


Recent Comments