রাজ্যে পালাবদলের আবহে একের পর এক রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে। এবার নন্দীগ্রামে তৃণমূল কংগ্রেসকে বড় ধাক্কা দিয়ে গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যপদ থেকে ইস্তফা দিলেন প্রাক্তন তৃণমূল প্রার্থী পবিত্র কর এবং তাঁর স্ত্রী শিউলি কর। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তাঁরা বয়াল-১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধানের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের বয়াল-১ গ্রাম পঞ্চায়েতের ১২ নম্বর বুথ থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন পবিত্র কর। পরবর্তীতে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তিনি ঘাসফুল শিবিরে যোগদান করেন। তাঁকে নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধে তৃণমূলের প্রার্থী করা হয়েছিল। তবে নির্বাচনে তিনি বিরোধী দলনেতার কাছে ৯,৬৬৫ ভোটে পরাজিত হন।
এদিকে, পবিত্রর স্ত্রী শিউলি করও একই গ্রাম পঞ্চায়েতের ৭ নম্বর বুথ থেকে বিজেপির সদস্য হিসেবে জয়ী হয়েছিলেন। তিনিও স্বামীর সঙ্গেই পদত্যাগ করেছেন।
রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর তৃণমূলের অন্দরে চাপ বাড়ছে। দলের ভরাডুবির পর থেকেই বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল নেতাদের পদত্যাগের হিড়িক লক্ষ্য করা যাচ্ছে। স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, পবিত্র কর যখন বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন, তখনই তাঁর সদস্যপদ ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। এখন চাপের মুখেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়েছেন।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে যে পবিত্র করকে নন্দীগ্রামে দলের অন্যতম ‘তুরুপের তাস’ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, নির্বাচনের ফলপ্রকাশের পর তাঁর এই ইস্তফা তৃণমূলের কাছে বড়সড় রাজনৈতিক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।


Recent Comments