নিজস্ব সংবাদদাতা, নিউজস্কোপ বাংলা: দেশের শীর্ষ সাংবিধানিক পদের সঙ্গে শাসকদলের সংঘাত যেন থামার নামই নিচ্ছে না। এবার খোদ ভারতের (India) রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর (Droupadi Murmu) প্রাতরাশের আমন্ত্রণ সরাসরি ফিরিয়ে দিল তৃণমূল কংগ্রেস (Trinamool Congress)। শুধু আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দেওয়াই নয়, কেন তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তার স্পষ্ট কারণও তুলে ধরেছে রাজ্যের শাসকদল। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি (Delhi) থেকে শুরু করে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) পর্যন্ত রাজনৈতিক পারদ ক্রমশ চড়তে শুরু করেছে।
আমন্ত্রণ প্রত্যাখ্যানের মূল কারণ
রাজনৈতিক মহলের মতে, এই পদক্ষেপ নিছক কোনও শিষ্টাচার ভঙ্গের বিষয় নয়, বরং এর পিছনে রয়েছে গভীর রাজনৈতিক বার্তা। তৃণমূল নেতৃত্বের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, বর্তমান কেন্দ্রীয় সরকার রাজ্যের প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে। ১০০ দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস যোজনার মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা আটকে রেখেছে কেন্দ্র। রাজ্যের সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে গরিব খেটে খাওয়া মানুষজন যখন তাদের ন্যায্য পাওনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন, তখন উৎসব বা প্রাতরাশের মতো অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া দলের পক্ষে সম্ভব নয়।
দলের এক শীর্ষ নেতার কথায়, “রাষ্ট্রপতির প্রতি আমাদের পূর্ণ সম্মান রয়েছে। তাঁর সাংবিধানিক পদকে আমরা মর্যাদা দিই। কিন্তু যে কেন্দ্রীয় সরকারের পরামর্শে তিনি চলেন, সেই সরকার দিনের পর দিন বাংলাকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে। রাজ্যের প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আমরা দিল্লিতে গিয়ে প্রাতরাশ সারব, আর রাজ্যের মানুষ কষ্টে থাকবে, তা হতে পারে না।” এই প্রতিবাদকে সামনে রেখেই মূলত বয়কটের পথে হেঁটেছে রাজ্যের শাসকদল।
বিজেপির কড়া প্রতিক্রিয়া
তৃণমূলের এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছে বিরোধী দল বিজেপি (BJP)। পদ্ম শিবিরের নেতাদের দাবি, এই আচরণ অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং এটি সরাসরি রাষ্ট্রপতিকে অপমান করার শামিল। বিজেপি নেতৃত্বের অভিযোগ, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে সাংবিধানিক পদগুলিকে অবমাননা করছে।
রাজ্য বিজেপির এক নেতার কথায়, “দেশের প্রথম আদিবাসী মহিলা রাষ্ট্রপতিকে প্রথম থেকেই তৃণমূল কংগ্রেস মেনে নিতে পারেনি। এর আগে তাদের দলের এক মন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে অত্যন্ত কুরুচিকর মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে গোটা দেশজুড়ে তোলপাড় হয়েছিল। এবার তাঁর আমন্ত্রণ ফিরিয়ে দিয়ে তৃণমূল প্রমাণ করল যে তারা আদিবাসী সমাজ এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদকে বিন্দুমাত্র সম্মান করে না। বঞ্চনার যে তত্ত্ব তারা খাড়া করছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।”
অতীতেও সংঘাতের ছায়া
রাষ্ট্রপতি বনাম তৃণমূল সংঘাতের ইতিহাস অবশ্য নতুন নয়। এর আগে তৃণমূলের এক প্রভাবশালী নেতার মন্তব্য ঘিরে তুমুল বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছিল, যার জেরে শাসকদলকে রীতিমতো অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছিল। পরবর্তীতে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে সেই মন্তব্যের জন্য ক্ষমাও চাইতে হয়। তবে এবার বিষয়টি একেবারে আলাদা। এবার নীতিগত এবং রাজনৈতিক প্রতিবাদের হাতিয়ার হিসেবেই রাষ্ট্রপতির আমন্ত্রণকে এড়িয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলার শাসকদল।


Recent Comments