মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (United States) এবং ইরান (Iran)-এর মধ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই একটি বড় খবর প্রকাশ্যে এসেছে। একটি আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা, মূলত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (Associated Press)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের আকাশে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে এবং ওই বিমানের পাইলট ইজেক্ট বা প্যারাসুটের সাহায্যে ঝাঁপ দিয়ে প্রাণে বেঁচেছেন বলে জানা গেছে। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি যুদ্ধের ময়দানে নতুন করে উত্তাপ ছড়িয়েছে।
ইরানের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো এই খবরের সত্যতা দাবি করেছে। একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলের সংবাদ উপস্থাপক সরাসরি সম্প্রচারে একটি বিশেষ ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, “যদি কেউ শত্রুপক্ষের পাইলট বা পাইলটদের জীবিত অবস্থায় ধরে পুলিশ বা সামরিক বাহিনীর হাতে তুলে দিতে পারেন, তবে তাকে একটি মূল্যবান এবং বড় অঙ্কের পুরস্কার দেওয়া হবে।” তবে একই সময়ে ওই চ্যানেলের স্ক্রিনে একটি ভিন্ন বার্তা ভেসে উঠতে দেখা যায়, যেখানে জনসাধারণকে উদ্দেশ্য করে লেখা ছিল, “তাদের দেখতে পেলেই সরাসরি গুলি করুন।” এই পরস্পরবিরোধী বার্তা স্থানীয় মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তির পাশাপাশি ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে।
এদিকে, ইরানের সরকারি সম্প্রচারকারী সংস্থা আইআরআইবি (IRIB) সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম এক্সে (X) জানিয়েছে যে, বহু সাধারণ মানুষ নিজেদের ব্যক্তিগত গাড়িতে করে যুদ্ধবিমান ভেঙে পড়ার এলাকার দিকে রওনা দিয়েছেন। তাদের মূল উদ্দেশ্য হলো মার্কিন পাইলটকে বন্দি করা। আইআরআইবি আরও জানিয়েছে, “দক্ষিণ-পশ্চিম ইরানের বহু মানুষ মার্কিন পাইলটকে ধরতে ক্র্যাশ সাইটের দিকে ছুটে যাচ্ছেন। তবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সাধারণ মানুষকে কড়া নির্দেশ দিয়েছে যেন পাইলটের সঙ্গে কোনো ধরনের দুর্ব্যবহার বা অমানবিক আচরণ করা না হয়।”
ইরানের দাবি: এফ-৩৫ এবং এফ-১৫ যুদ্ধবিমান ভূপাতিত
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো আরও দাবি করেছে যে, সেন্ট্রাল বা মধ্য ইরানের আকাশে একটি অত্যাধুনিক মার্কিন এফ-৩৫ (F-35) স্টিলথ ফাইটার জেটকে নামিয়েছে ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (Islamic Revolutionary Guard Corps)। ইরানের স্থানীয় সংবাদ সংস্থা তাসনিম (Tasnim) এই ঘটনার বেশ কিছু ছবি প্রকাশ করেছে, যেগুলোকে মার্কিন যুদ্ধবিমানের ধ্বংসাবশেষ বলে দাবি করা হচ্ছে। এই সংবাদ সংস্থার রিপোর্টে বলা হয়েছে, এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় পাইলটের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ।
অন্যদিকে, আইআরআইবি আলাদাভাবে দাবি করেছে যে, ইউনাইটেড কিংডম (United Kingdom)-এর আরএএফ লেকেনহিথ ঘাঁটির ৪৯৪তম ফাইটার স্কোয়াড্রনের একটি এফ-১৫ই স্ট্রাইক ইগল (F-15E Strike Eagle) যুদ্ধবিমানকেও ভূপাতিত করা হয়েছে। তারা এক্সে বিমানের লেজের অংশের কিছু ধ্বংসাবশেষের ছবি পোস্ট করে লেখে, “ধ্বংসাবশেষ পরিষ্কারভাবে প্রমাণ করে যে বিমানটি নামানো হয়েছে। পাইলটদের বর্তমান পরিণতি বা অবস্থা এখনও অজানা।”
মার্কিন বাহিনীর নীরবতা এবং পূর্ববর্তী ইতিহাস
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে এই ভয়ংকর সংঘাত শুরু হওয়ার পর এটি তৃতীয় ঘটনা, যেখানে ইরান একটি এফ-৩৫ বিমান ভূপাতিত করার দাবি করল। এর আগে গত ২৩ মার্চ এবং ২ এপ্রিল তেহরান ঠিক একই ধরনের দাবি করেছিল। তবে সেই দুটি দাবিই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (US Central Command)-এর পক্ষ থেকে সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেওয়া হয়েছিল।
আগের একটি ইরানি ভিডিওর জবাবে সেন্ট্রাল কমান্ড তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে লিখেছিল, “সমস্ত মার্কিন যুদ্ধবিমান সুরক্ষিত এবং নিরাপদে রয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ হিসাব আমাদের কাছে আছে। আইআরজিসি (IRGC) অন্তত আধা ডজন বার এই একই ধরনের মিথ্যা দাবি করেছে।”
তবে এই সর্বশেষ দাবির বিষয়ে প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড, পেন্টাগন (Pentagon) বা হোয়াইট হাউস (White House)-এর তরফ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি বা প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। এই অপ্রত্যাশিত নীরবতা আন্তর্জাতিক মহলে জল্পনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।


Recent Comments