ভালোবাসার কি এমন ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে। অন্ধ্রপ্রদেশের (Andhra Pradesh) বিশাখাপত্তনমে (Visakhapatnam) এক ভয়ংকর হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটল। এক ৩৫ বছর বয়সী ইন্ডিয়ান নেভি (Indian Navy) বা নৌবাহিনীর টেকনিশিয়ান তার ২৯ বছরের প্রেমিকাকে নির্মমভাবে খুন করেছে। শুধু খুন করেই সে ক্ষান্ত হয়নি, অপরাধ ও প্রমাণ লোপাটের জন্য প্রেমিকার নিথর দেহটিকে একাধিক টুকরো করে কেটে তার বেশ কিছু অংশ নিজের বাড়ির রেফ্রিজারেটরে বা ফ্রিজে লুকিয়ে রেখেছিল ওই অভিযুক্ত। সমাজের রক্ষক হিসেবে যাদের দিকে আমরা তাকিয়ে থাকি, তাদের মধ্যেই কারও এমন পৈশাচিক রূপ সত্যিই আমাদের সমাজব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে ভাবিয়ে তোলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, এই রোমহর্ষক ঘটনার মূল অভিযুক্তের নাম সিএইচ রবীন্দ্র (Ch Ravindra)। সে পেশায় ভারতীয় নৌবাহিনীর একজন টেকনিশিয়ান। রবীন্দ্র মূলত বিজয়নগরম (Vizianagaram) জেলার রাজাম (Rajam) এলাকার বাসিন্দা। অন্যদিকে, দুর্ভাগ্যজনকভাবে প্রাণ হারানো ওই তরুণীর নাম মৌনিকা (Mounika)। তিনি ভিজাগ (Vizag) শহরেরই বাসিন্দা ছিলেন। এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছে গাজুওয়াকা (Gajuwaka) থানার অন্তর্গত এলভি নগর (LV Nagar) এলাকায় অবস্থিত অভিযুক্ত রবীন্দ্রর ভাড়াবাড়িতে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা আজ কোথায় গিয়ে দাঁড়িয়েছে, এই ঘটনা তারই এক জ্বলন্ত উদাহরণ।
স্থানীয় সূত্র এবং পুলিশি তদন্তে উঠে এসেছে আরও বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য। রবীন্দ্র আদতে একজন বিবাহিত পুরুষ। জানা গিয়েছে, কয়েক সপ্তাহ আগেই তার স্ত্রী বিজয়নগরমে নিজের দেশের বাড়িতে গিয়েছিলেন। স্ত্রী বাড়িতে না থাকার সুবাদে রবীন্দ্র একা থাকার সুযোগ পায় এবং তার প্রেমিকা মৌনিকার সঙ্গে অবাধ মেলামেশা শুরু করে। তাদের মধ্যে বেশ কিছুদিন ধরেই বিবাহবহির্ভূত বা পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রবিবার, ২৯ মার্চ দুপুরে রবীন্দ্র ফোন করে মৌনিকাকে নিজের ফাঁকা বাড়িতে ডেকে পাঠায়। প্রেমিকের ডাকে সাড়া দিয়ে তরুণীও সেখানে ছুটে গিয়েছিলেন। দুজনে মিলে বেশ কয়েক ঘণ্টা একসঙ্গে সময় কাটান বলে খবর। কিন্তু বিকেল গড়াতেই তাদের মধ্যে কোনো এক অজানা কারণে তুমুল বচসা শুরু হয়। ঝগড়া এতটাই চরমে পৌঁছায় যে, রাগের বশে হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হয়ে রবীন্দ্র একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে মৌনিকাকে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মৃত্যু হয় ওই তরুণীর।
খুনের পর নিজের অপরাধ ধামাচাপা দিতে এক চরম পৈশাচিক রাস্তার আশ্রয় নেয় এই নৌবাহিনীর কর্মী। সে তরুণীর মৃতদেহটিকে একটি ধারালো অস্ত্র দিয়ে একাধিক টুকরো করে কাটে। এরপর শরীরের কিছু অংশ একটি ব্যাগে ভরে সেগুলোকে কোনো এক নির্জন জায়গায় গিয়ে ফেলে আসে। কিন্তু বাকি দেহাংশগুলো সে নিজের বাড়ির ফ্রিজের ভেতরে সযত্নে লুকিয়ে রাখে। একজন সুস্থ মস্তিষ্কের মানুষ কীভাবে এমন নারকীয় কাজ করতে পারে, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন সকলে। প্রতিবেশীরাও ঘুণাক্ষরে টের পাননি যে তাদের পাশের বাড়িতেই এমন এক ভয়াবহ কাণ্ড ঘটে চলেছে।
অবশেষে নিজের বিবেকের দংশনে হোক বা পুলিশের হাতে ধরা পড়ার তীব্র ভয়ে, রবীন্দ্র নিজেই স্থানীয় থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করে। পুলিশ আধিকারিকদের সামনে সে তার এই ঘৃণ্য অপরাধের কথা অকপটে স্বীকার করে নেয়। তার বয়ান শুনে স্তম্ভিত হয়ে যান দুঁদে পুলিশ আধিকারিকরাও। এরপর পুলিশ দ্রুত তার ওই বাড়িতে পৌঁছায় এবং ফ্রিজ থেকে নিহত তরুণীর শরীরের বেশ কিছু টুকরো উদ্ধার করে। তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর বিষয় হল, তরুণীর কাটা মাথাটি এখনও উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, অভিযুক্ত মাথাটি অন্য কোথাও লোপাট করেছে। নিহত তরুণীর কাটা মাথা এবং শরীরের বাকি অংশগুলো খুঁজে বের করতে পুলিশ ইতিমধ্যেই একটি বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করেছে।


Recent Comments