২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হলো আজ। উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, নদীয়া, হাওড়া, হুগলি, পূর্ব বর্ধমান এবং কলকাতার ১৪২টি আসনে ভোটগ্রহণ চলে। বিকেল ৫টা পর্যন্ত রাজ্যে প্রায় ৯০ শতাংশ (৮৯.৯৯%) ভোট পড়েছে। তবে রেকর্ড ভোটদানের পাশাপাশি দিনভর বিভিন্ন জেলা থেকে বিক্ষিপ্ত অশান্তি ও ইভিএম বিভ্রাটের খবরও সামনে এসেছে।সকাল থেকেই বেশ কিছু এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
নদীয়ার চাপড়ায় ৫৩ নম্বর বুথে এক বিজেপি এজেন্টকে মারধরের অভিযোগ ওঠে তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একইভাবে শান্তিপুরে একটি বিজেপি ক্যাম্প অফিস ভাঙচুর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা ছড়ায়।দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড় ছিল আজ সংবাদের শিরোনামে। সেখানে আইএসএফ (ISF) এজেন্টদের বুথে ঢুকতে বাধা দেওয়া এবং ভোটারদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, হাওড়ার বালিতে ইভিএম বিভ্রাট নিয়ে বচসার জেরে তৃণমূল ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে সিআরপিএফ-কে লাঠিচার্জ করতে হয় এবং দুজনকে আটক করা হয়।
পানিহাটি এবং দমদমেও বুথ জ্যামিং ও এজেন্টদের বসতে না দেওয়ার বিক্ষিপ্ত অভিযোগ জমা পড়েছে কমিশনে। কলকাতা দক্ষিণের যাদবপুর ও সোনারপুরের একাধিক বুথে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে দীর্ঘক্ষণ ভোটগ্রহণ বন্ধ থাকায় ভোটারদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়।আজ যখন বাংলায় ভোট চলছে, ঠিক তখনই উত্তরপ্রদেশের নির্বাচনী সভা থেকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দাবি করেন, “এবার পশ্চিমবঙ্গ ভয়মুক্ত পরিবেশে ভোট দিচ্ছে।” তিনি কেন্দ্রের কড়া নজরদারি ও সাধারণ মানুষের সাহসের প্রশংসা করেন।
এদিকে ভবানীপুরে আজ ছিল হাই-ভোল্টেজ লড়াই। একই বুথ এলাকায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী উপস্থিত হওয়ায় চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, “কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বহিরাগত অফিসারদের কাজে লাগিয়ে বিজেপি ভোট রিগিং করার চেষ্টা করছে।” পাল্টা শুভেন্দু অধিকারীর দাবি, হার নিশ্চিত জেনেই মুখ্যমন্ত্রী অশান্তি তৈরির চেষ্টা করছেন।বর্তমানে সমস্ত ইভিএম সিল করে স্ট্রং রুমে পাঠানোর কাজ চলছে। অশান্তি হওয়া বুথগুলিতে পুনরায় ভোটের প্রয়োজন আছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে নির্বাচন কমিশন।


Recent Comments