back to top
Saturday, May 30, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিবাংলায় শুরু হচ্ছে জনগণনা! আগস্ট থেকেই চালু ডিজিটাল পদ্ধতি, নবান্নের বৈঠক শেষে...

বাংলায় শুরু হচ্ছে জনগণনা! আগস্ট থেকেই চালু ডিজিটাল পদ্ধতি, নবান্নের বৈঠক শেষে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর

রাজ্যে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর এবার দীর্ঘদিনের থমকে থাকা প্রশাসনিক কাজে বড়সড় গতি আনতে চলেছে নতুন সরকার। এবার পশ্চিমবঙ্গে শুরু হতে চলেছে বহুল প্রতীক্ষিত জনগণনা বা সেন্সাস (Census)-এর কাজ। আগামী আগস্ট (August, 2026) মাস থেকেই রাজ্য জুড়ে এই প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে চিরাচরিত খাতা-কলমের পদ্ধতির বদলে, এবার সম্পূর্ণ আধুনিক ও ডিজিটাল পদ্ধতিতে (Digital System) মানুষের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। আজ, শুক্রবার নবান্নে (Nabanna) এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই কথা স্পষ্ট করে দিলেন রাজ্যের নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।

​মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামোয় একাধিক রদবদল এনেছেন তিনি। গত ১১ মে হওয়া প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকেই জনগণনা চালুর বিষয়ে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছিল। এবার নবান্নের বিশেষ ম্যারাথন বৈঠক থেকে এই বিশাল কর্মযজ্ঞের চূড়ান্ত সময়সীমা এবং ব্লুপ্রিন্ট (Blueprint) প্রকাশ করলেন মুখ্যমন্ত্রী।

​পূর্ববর্তী সরকারের অসহযোগিতাকেই দায়ী করলেন মুখ্যমন্ত্রী

​নবান্ন সূত্রের খবর, এদিনের বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের আধিকারিকদের পাশাপাশি রাজ্যের স্বরাষ্ট্র সচিব, প্রধান সচিব এবং জেলাশাসকরাও উপস্থিত ছিলেন। বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari) পূর্ববর্তী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের উদাসীনতা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের (Union Home Ministry) সাথে অসহযোগিতার কারণেই দেশের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গ এই জনগণনার কাজে বহু বছর পিছিয়ে রয়েছে।

​মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, “কেন্দ্রীয় সরকারের সমস্ত জনকল্যাণমূলক নীতি ও অনুদান সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য নিখুঁত জনসংখ্যা ও পারিবারিক তথ্য থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিগত সরকার রাজনৈতিক স্বার্থে এই প্রক্রিয়াকে আটকে রেখেছিল, কিন্তু আমরা তা হতে দেব না।”

​কীভাবে ও কারা করবেন এই ডিজিটাল জনগণনা?

​আগস্ট মাস থেকে শুরু হতে চলা এই ডিজিটাল জনগণনার কাজ যাতে মসৃণভাবে সম্পন্ন হয়, তার জন্য ইতিমধ্যেই ব্লক ও জেলা স্তরে প্রশাসনিক আধিকারিকদের সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব ভাগ করে নোটিশ পাঠানো হয়েছে।

  • ​জেলা স্তরে ডিভিশনাল কমিশনার, জেলাশাসক (DM), অতিরিক্ত জেলাশাসক (ADM) এবং মহকুমা শাসকরা (SDM) এই পুরো প্রক্রিয়ার তদারকি করবেন।
  • ​গ্রামীণ এলাকায় ব্লক ডেভলপমেন্ট অফিসার (BDO) এবং জয়েন্ট বিডিও-রা কাজ পরিচালনা করবেন।
  • ​শহরাঞ্চল ও পুরসভাগুলিতে মিউনিসিপ্যাল কমিশনার এবং এক্সিকিউটিভ অফিসারদের কাঁধে এই দায়িত্ব অর্পণ করা হয়েছে।
আরো পড়ুন:  গণনার আগে প্রস্তুতি চূড়ান্ত: মালদায় স্ট্রংরুম পরিদর্শনে জেলা প্রশাসন ও প্রার্থীরা

​ডিজিটাল পদ্ধতির মাধ্যমে ডেটা বা তথ্য সংগ্রহের জন্য কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। একটি নির্দিষ্ট মোবাইল অ্যাপ বা ট্যাবের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য আপলোড করা হবে, যা সরাসরি কেন্দ্রীয় সার্ভারে জমা পড়বে। এর ফলে তথ্যের জালিয়াতি রুখে দেওয়া সম্ভব হবে এবং অত্যন্ত দ্রুততার সাথে জনগণনার কাজ শেষ করা যাবে বলে আশাবাদী নবান্নের আধিকারিকরা।

​নিখুঁত তথ্যপ্রমাণ থাকলে মিলবে কেন্দ্রীয় সুবিধা

​এই হাইপ্রোফাইল বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, জনগণনার কাজ দ্রুত শেষ করে উপভোক্তাদের সঠিক তালিকা তৈরি করা হবে, যাতে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ (Ayushman Bharat)-এর মতো একাধিক কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিমা ও অন্যান্য উন্নয়নমূলক প্রকল্পের সুবিধা রাজ্যের প্রতিটি যোগ্য পরিবার পেতে পারে। মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন, এই ডিজিটাল তথ্য সংগ্রহের সময় সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা সম্পূর্ণ বজায় রাখা হবে এবং নির্ভুলভাবে প্রতিটি নাগরিকের নাম নথিভুক্ত করা হবে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments