ফেব্রুয়ারি মানেই বাজেটের মরশুম। ১লা ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় বাজেট পেশের পর এবার নজর রাজ্য বাজেটের দিকে। আজই পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় পেশ হতে চলেছে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট। আর এই বাজেটকে ঘিরেই এখন রাজ্যজুড়ে শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা। নবান্ন সূত্রে খবর, সামনেই বিধানসভা নির্বাচন (২০২৬-এর মাঝামাঝি), তাই এবার জনমোহিনী বাজেটের পথেই হাঁটতে চলেছে রাজ্য সরকার। আর সেই জল্পনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রাজ্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রকল্প—’লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’।
৩০০০ টাকার জল্পনা: সোশ্যাল মিডিয়া থেকে চায়ের দোকান—সর্বত্রই এখন একটাই আলোচনা, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান কি আরও বাড়ছে? বর্তমানে সাধারণ মহিলারা ১০০০ টাকা এবং তফশিলি জাতি-উপজাতিরা ১২০০ টাকা পান। সূত্রের খবর, অর্থমন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য এবারের বাজেটে এই অঙ্ক বাড়িয়ে যথাক্রমে ১৫০০ এবং ২০০০, অথবা ঢালাওভাবে সকলের জন্য ৩০০০ টাকা করার প্রস্তাব রাখতে পারেন। যদিও সরকারিভাবে এ নিয়ে কেউ মুখ খোলেননি, তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অ্যান্টি-ইনকাম্বেন্সি ফ্যাক্টর কাটাতে এটিই হতে পারে তৃণমূলের ‘ট্রাম্প কার্ড’।
বিরোধীদের রণকৌশল: অন্যদিকে, বাজেট অধিবেশনকে কেন্দ্র করে বিধানসভা উত্তপ্ত করার ছক কষছে বিজেপি। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী আজ এক সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, “ঋণের বোঝায় রাজ্য ডুবছে, ডিএ (DA) বাকি সরকারি কর্মচারীদের, আর সরকার ব্যস্ত দান-খয়রাতি নিয়ে। আমরা শ্বেতপত্র প্রকাশের দাবি জানাব।” বিজেপি বিধায়করা ইতিমধ্যেই সন্দেশখালি ইস্যু এবং নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে বিধানসভায় মুলতুবি প্রস্তাব আনার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ: বাজেট বক্তৃতায় এবারও ‘কেন্দ্রীয় বঞ্চনা’র বিষয়টি বড় করে উঠে আসতে চলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। আবাস যোজনা এবং ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সুর চড়াতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সব মিলিয়ে, আগামী সপ্তাহের বাজেট অধিবেশন যে ঘটনাবহুল হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। রাজ্যের মা-বোনেদের নজর এখন বিধানসভার দিকে—লক্ষ্মী কি সত্যিই এবার কৃপা করবেন?
