আসামের বর্তমান পরিস্থিতি: ঘৃণা ও মেরুকরণের রাজনীতি
বর্তমানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত উত্তপ্ত। ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মার বিভিন্ন কর্মকাণ্ড এবং মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। বিশেষ করে রাজ্যের বাঙালি-ভাষী মুসলিম সম্প্রদায়কে লক্ষ্য করে তাঁর সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপ এবং প্রচার পদ্ধতি ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোর ওপর বড় প্রশ্ন চিহ্ন দাঁড় করিয়েছে।
সাম্প্রতিককালে আসাম বিজেপির অফিশিয়াল এক্স (টুইটার) হ্যান্ডেল থেকে পোস্ট করা একটি ভিডিও নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে। ভিডিওটিতে মুখ্যমন্ত্রীকে একটি রাইফেলের মাধ্যমে টুপিপরা দু’জন ব্যক্তির ছবির দিকে লক্ষ্যভেদ করতে দেখা যায়, যার নিচে লেখা ছিল “পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক শট”। ভিডিওটিতে “নো মার্সি” (কোনো ক্ষমা নেই) এবং “বাংলাদেশি মুক্ত আসাম” এর মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করা হয়েছে। যদিও বিতর্কের মুখে ভিডিওটি ডিলিট করা হয়েছে, কিন্তু বিরোধী দল কংগ্রেস এবং সিপিআই(এম) একে সরাসরি ‘গণহত্যার উস্কানি’ বলে অভিহিত করেছে।
হিমন্ত বিশ্ব শর্মার রাজনীতিতে ‘মিঞা’ (বাঙালি-ভাষী মুসলিম) শব্দটি বারবার একটি নেতিবাচক অর্থে ব্যবহৃত হচ্ছে। তিনি জনসভায় দাঁড়িয়ে দাবি করেছেন যে ৪-৫ লক্ষ ‘সন্দেহজনক’ ভোটারকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি আসলে জনতাত্ত্বিক পরিবর্তনের দোহাই দিয়ে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে কোণঠাসা করার কৌশল। ভোটার তালিকা সংশোধনীর নামে বেছে বেছে মুসলিম ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এই ঘৃণাভাষণ বা ‘হেট স্পিচ’-এর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে একাধিক পিটিশন দাখিল হয়েছে। বিশিষ্ট বুদ্ধিজীবী হিরেন গোহাঁই এবং প্রাক্তন পুলিশ প্রধান হরেকৃষ্ণ ডেকাসহ একদল নাগরিক আদালতের দ্বারস্থ হয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়েরের দাবি জানিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখার কথা জানিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে, সাংবিধানিক পদে বসে মুখ্যমন্ত্রী বিভাজনমূলক মন্তব্য করছেন, যা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করছে।
আসামের সাধারণ মানুষের কাছে বন্যা এবং জলবায়ু পরিবর্তন এক বিরাট সমস্যা। কিন্তু সমালোচকদের মতে, উন্নয়ন বা জনহিতকর কাজের বদলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা ধর্মীয় মেরুকরণ এবং ‘বহিরাগত’ ইস্যুকে সামনে আনছেন। একদিকে যখন তিনি নিজেকে ‘আসামের ত্রাতা’ হিসেবে উপস্থাপন করতে চাইছেন, অন্যদিকে বিরোধীদের অভিযোগ তিনি স্রেফ ভোটের স্বার্থে হিন্দু-মুসলিম বিভাজনকে হাতিয়ার করছেন।
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/union-minister-slams-tmc-budget-calls-it-farewell-note/

