আগামী এপ্রিলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার পাঁচটি আসন শূন্য হচ্ছে। কিন্তু রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে বিশেষ করে দু’টি আসন—যেখানে গত ছ’বছরে নজিরবিহীনভাবে একই মেয়াদে তিন জন করে সাংসদ বদল হয়েছে। সংসদীয় রাজনীতিতে এমন ঘন ঘন পরিবর্তন খুব একটা দেখা যায় না বলেই মনে করছেন পর্যবেক্ষকদের একাংশ।
প্রথম আসনটির ইতিহাস শুরু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে। সেই সময় ‘অন্তরাত্মার ডাকে’ রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তাঁর জায়গায় মনোনীত হন প্রাক্তন আমলা জহর সরকার। কিন্তু আরজি কর কাণ্ডের পর দলীয় অবস্থানের প্রতিবাদে তিনিও সাংসদ পদ ছাড়েন। শূন্যস্থানে আসেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়। ফলে একই মেয়াদে তিন সাংসদের দেখা মিলেছে এই একটি আসনে।
দ্বিতীয় আসনেও প্রায় একই ছবি। ২০২০ সালে রাজ্যসভায় যান নাট্যকর্মী অর্পিতা ঘোষ। পরের বছর অর্থাৎ ২০২১ এর সেপ্টেম্বর মাসে দলের নির্দেশে তিনি ইস্তফা দেন এবং তাঁর জায়গায় পাঠানো হয় গোয়ার প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী লুইজিনহো ফেলেইরোকে। কিন্তু ২০২৩ সালে তিনিও পদত্যাগ করেন। এরপর ওই আসনে আসেন আরটিআই কর্মী সাকেত গোখলে। অর্থাৎ এখানেও এক মেয়াদে তিন জন সাংসদ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইস্তফা বা আকস্মিক শূন্যতার কারণে মধ্যমেয়াদে সাংসদ বদলের নজির থাকলেও, একটানা একই মেয়াদে তিন বার পরিবর্তন বিরল। নব্বইয়ের দশকের শেষে বামফ্রন্ট আমলে একটি আসন নিয়ে ফরওয়ার্ড ব্লক ও আরএসপি-র মধ্যে ‘অর্ধেক-অর্ধেক’ সমঝোতার কথা উঠেছিল বটে, কিন্তু বাস্তবে একাধিক সাংসদ বদলের নজির তৈরি হয়নি।
এখন প্রশ্ন—বর্তমান দুই সাংসদ ঋতব্রত ও সাকেতের ভবিষ্যৎ কী? সাকেতকে ঘিরে আইনি বিতর্ক রয়েছে। দিল্লি হাই কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী মানহানির মামলায় ক্ষতিপূরণ সংক্রান্ত বিষয় এখনও আলোচনায়। অন্যদিকে ঋতব্রত গত এক বছরে রাজ্যসভায় সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছেন বলে দলের একাংশের মত। তাঁকে রাজ্য রাজনীতিতে আনা হবে, না কি উচ্চকক্ষেই রাখা হবে—তা নিয়েও জল্পনা রয়েছে।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন দলের শীর্ষনেতৃত্ব। তবে দলীয় সূত্রের দাবি, গত ছ’বছরে বারবার মুখ বদলের অভিজ্ঞতা এ বার প্রার্থী চয়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ বিবেচ্য হতে পারে। ফলে রাজ্যসভার এই দু’টি আসন ঘিরে রাজনৈতিক কৌতূহল ক্রমশ বাড়ছে।
আরও পড়ুনঃ https://bengali.newscope.press/muslim-vote-split-concerns-experts-opinion/

