8 march, 2026 – রাশিয়ার কাছ থেকে কম দামে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়ে ভারতকে সাময়িক ছাড় বা ওয়েভার দিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই পদক্ষেপে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। বর্তমান প্রশাসনের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঠিক কী বলছেন, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে কৌতূহল তুঙ্গে।
আন্তর্জাতিক কূটনীতির মঞ্চে ফের নতুন সমীকরণ তৈরি হলো। দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়ার (Russia) কাছ থেকে খনিজ তেল কেনার বিষয়ে ভারতের (India) ওপর পরোক্ষ চাপ সৃষ্টি করে আসছিল আমেরিকা । কিন্তু এবার সেই কঠোর অবস্থানে কিছুটা বদল আনল ওয়াশিংটন । জানা গিয়েছে, রুশ তেল কেনার ক্ষেত্রে নয়াদিল্লিকে (New Delhi) সাময়িক ‘ছাড়পত্র’ বা ওয়েভার দিতে সম্মত হয়েছে মার্কিন প্রশাসন। আর এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। বিশেষ করে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) এই বিষয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন, যা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে জলঘোলা শুরু হয়েছে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই মস্কোর ওপর একাধিক অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে পশ্চিমা বিশ্ব। ইউরোপ (Europe) থেকে শুরু করে একাধিক উন্নত দেশ রুশ তেল কেনা বয়কট করলেও, ভারত নিজেদের সিদ্ধান্তে বরাবরই অনড় থেকেছে। দেশের মানুষের স্বার্থে এবং অভ্যন্তরীণ মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) সরকারের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ডিসকাউন্টে বা ছাড়ের মূল্যে কিনেছে ভারত। প্রথমদিকে এই নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্র দেশগুলো প্রবল অসন্তোষ প্রকাশ করলেও, ভারতের মতো বিশাল অর্থনীতির দেশকে চটিয়ে তারা খুব বেশি দূর এগোতে চায়নি।
কূটনৈতিক মহলের মতে, এশিয়া (Asia) মহাদেশে চিনের আধিপত্য খর্ব করতে ভারতের সঙ্গ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অত্যন্ত প্রয়োজন। তাই কৌশলগত দিক বিবেচনা করেই এই সাময়িক ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এর ফলে ভারত আপাতত কোনও কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়বে না এবং নির্বিঘ্নে নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে পারবে।
তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মার্কিন অভ্যন্তরীণ রাজনীতি বেশ সরগরম হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্প এই সাময়িক ছাড়পত্র দেওয়ার সিদ্ধান্তে বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেছেন। ট্রাম্পের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ আমেরিকার দুর্বল বিদেশ নীতিরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে জানিয়েছেন যে, আমেরিকা যদি বিশ্বে নিজেদের ক্ষমতা ও আধিপত্য বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের আরও কঠোর হতে হবে।
ট্রাম্প একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেন যে, ভারত তাদের নিজেদের স্বার্থ দেখবে এটাই স্বাভাবিক এবং তারা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে নিজেদের দেশের অর্থনীতিকে বাঁচাচ্ছে। কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উচিত ছিল নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া। তিনি বর্তমান সরকারের দিকে আঙুল তুলে বলেন, “আমাদের দেশ এখন এমন নেতাদের দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে, যাদের বিশ্বে কোনও সম্মান নেই।” ট্রাম্প তাঁর ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির কথা বারবার স্মরণ করিয়ে দিয়ে দাবি করেছেন, বর্তমান সরকার একদিকে রাশিয়ার অর্থনীতিকে পঙ্গু করার কথা বলছে, আবার অন্যদিকে এমন সব ছাড় দিচ্ছে যা আদতে আন্তর্জাতিক স্তরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাবমূর্তিকে দুর্বল করছে।
ভারত কেবল রাশিয়ার কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে না, সেই তেল দেশের শোধনাগার বা রিফাইনারিগুলিতে পরিশোধন করে আবার ইউরোপের বাজারেও বিক্রি করছে। এই বিষয়টিতেও পশ্চিমাদের নীরব সম্মতি রয়েছে বলে অনেক অর্থনীতিবিদ মনে করেন। কারণ, সরাসরি রুশ তেল বয়কট করা হলেও পরোক্ষভাবে সেই তেল বিশ্ব বাজারে না এলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট মারাত্মক আকার ধারণ করত। ভারতের এই সাময়িক ছাড়পত্রের ফলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে জোগান এবং দামের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় থাকবে বলেই আশা করা হচ্ছে।
এটি ওয়াশিংটনের একটি সুচিন্তিত কৌশলগত চাল, যা দিয়ে তারা আপাতত ভারতকে নিজেদের বলয়ে রাখতে চাইছে। আগামী দিনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আসতে পারে। তবে আপাতত ভারতের জন্য এটি একটি বড় কূটনৈতিক জয়। আগামী দিনে ট্রাম্পের এই কড়া মন্তব্য মার্কিন ভোটব্যাঙ্কে এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ঠিক কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে গোটা বিশ্বের।

