নিউস্কোপ বাংলা বিশেষ প্রতিবেদন: আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ইরান এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (United States of America) মধ্যে উত্তেজনা নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে সম্প্রতি এই পারদ যেন অনেকটাই চড়েছে। আর এই চরম উত্তেজনার মাঝেই খোদ মার্কিন প্রশাসনের অন্দরের খবর নিয়ে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। শোনা যাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে তাঁর বেশ কয়েকজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী পরামর্শ দিয়েছেন যেন তিনি তেহরানের (Tehran) সাথে সম্ভাব্য কোনো যুদ্ধে জড়ানোর আগেই একটি সুনির্দিষ্ট ‘এক্সিট প্ল্যান’ বা সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার রূপরেখা জনসমক্ষে তুলে ধরেন। যদিও, ওয়াশিংটন (Washington) ডিসি-র প্রশাসনিক সদর দপ্তর হোয়াইট হাউস এই দাবিকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকটি সূত্রের দাবি, ট্রাম্পের কয়েকজন শীর্ষ সামরিক ও রাজনৈতিক উপদেষ্টা মধ্যপ্রাচ্যের (Middle East) বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। তাঁদের মতে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যদি নতুন করে কোনো দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে, তবে তা দেশের অর্থনীতি এবং আগামী দিনের রাজনীতির মাঠে বড়সড় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অতীতে ইরাক (Iraq) ও আফগানিস্তানের (Afghanistan) মতো দেশগুলোতে মার্কিন বাহিনীর দীর্ঘমেয়াদী অবস্থান যে খুব একটা সুখকর হয়নি, তা বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন এই বিশেষজ্ঞরা।
সহযোগীদের মূল বক্তব্য হলো, যদি সামরিক পদক্ষেপ নিতেই হয়, তবে সেটা যেন হয় স্বল্পমেয়াদী। এর একটি পরিষ্কার উপসংহার আগে থেকেই তৈরী থাকা উচিত। সাধারণ আমেরিকানরা আর কোনো ‘অফুরন্ত যুদ্ধ’ বা ‘ফরএভার ওয়ার’ দেখতে চায় না, এই বার্তাই তাঁরা ট্রাম্পের কান পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
তবে এই খবর প্রকাশ্যে আসতেই তড়িঘড়ি আসরে নেমেছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে এক কড়া বিবৃতিতে জানানো হয়েছে যে, প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ মহলে এমন কোনো ‘এক্সিট প্ল্যান’ নিয়ে আদৌ কোনো আলোচনা হয়নি। প্রশাসনের এক শীর্ষ মুখপাত্র জানান, “প্রেসিডেন্ট সবসময় আমেরিকার সুরক্ষাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেন। আমাদের শত্রুদের প্রতি আমাদের বার্তা অত্যন্ত স্পষ্ট— আমরা কোনো দুর্বলতা বরদাস্ত করব না। তবে এই মুহূর্তে কোনো আগাম এক্সিট প্ল্যান তৈরির খবর একেবারেই ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রশাসন কোনোভাবেই দেখাতে চায় না যে তারা মানসিকভাবে দুর্বল বা সংঘাতের আগেই পিছপা হওয়ার কথা ভাবছে। বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে মধ্যপ্রাচ্যের সমীকরণ অত্যন্ত জটিল। একদিকে ইজরায়েল (Israel) ও ফিলিস্তিন (Palestine) ইস্যু, অন্যদিকে লোহিত সাগরে (Red Sea) জাহাজে হামলার মতো ঘটনা— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি যেন আস্ত একটা বারুদের স্তূপ। এই অবস্থায় ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি সামরিক অভিযানে গেলে তার পরিণতি কী হতে পারে, তা নিয়ে পেন্টাগন (Pentagon) ও মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোও চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে।
ট্রাম্প বরাবরই ‘সবার আগে আমেরিকা’ নীতিতে বিশ্বাসী। তাই একদিকে যেমন তিনি কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন, অন্যদিকে তাঁর নিজের দলের ভেতরেই যুদ্ধবিরোধী একটা বড় অংশ তাঁকে সংযত হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে।

