আসন্ন পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিল ভারতের জাতীয় নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। সম্প্রতি ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে একটি রোড শো এবং মনোনয়ন পত্র জমা দেওয়ার সময় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি লক্ষ্য করা যায়। আর ঠিক সেই কারণেই কমিশন থেকে কলকাতা পুলিশের চারজন শীর্ষ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিককে সাসপেন্ড করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে, শনিবার ৪ এপ্রিল, দিল্লির নির্বাচন সদন থেকে সেক্রেটারি সুজিৎ কুমার মিশ্র রাজ্যের মুখ্য সচিবকে চিঠি পাঠান।তথ্য অনুযায়ী, সাসপেন্ড হওয়া পুলিশ আধিকারিকদের মধ্যে রয়েছেন:
সিদ্ধার্থ দত্ত (ডিসি-২, সাউথ ডিভিশন, কলকাতা পুলিশ)প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী (ওসি, আলিপুর থানা)চণ্ডীচরণ বন্দ্যোপাধ্যায় (অ্যাডিশনাল ওসি, আলিপুর)সৌরভ চট্টোপাধ্যায় (সার্জেন্ট, আলিপুর)।
তথ্য সূত্রে জানা গেছে, ১৫৯-ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রে সম্প্রতি এক হেভিওয়েট প্রার্থীর রোড শো এবং মনোনয়ন জমা দেওয়ার কর্মসূচি ছিল। সেই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচিতে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ঘটে। অভিযোগ ওঠে যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত পুলিশ প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়েছে। এরপরই রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) তরফ থেকে গত ৩ এপ্রিল একটি রিপোর্ট পাঠানো হয় জাতীয় নির্বাচন কমিশনে। অভিযুক্ত চারজন পুলিশের গাফিলতির জন্য তাঁদের শুধুমাত্র সাসপেন্ড করাই নয়, বরং তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় পদক্ষেপ নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছে দিল্লি কমিশন।
নির্বাচনের সময় এতগুলো গুরুত্বপূর্ণ পদ ফাঁকা রাখা কোনোভাবেই সম্ভব নয়। তাই সাসপেনশনের ফলে শূন্য হয়ে যাওয়া পদগুলোতে নতুন কাদের নিযুক্ত করা যায়, রাজ্যের কাছ থেকে সেই নামের তালিকা চেয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।নির্বাচনের আগেই এমন কঠোর পদক্ষেপ রাজ্য ও পুলিশ মহলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুলিশ প্রশাসনকে আরও বেশি সতর্ক ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলো। এই নির্দেশ থেকে স্পষ্ট যে, আগামী দিনে অন্য কোনো বিধানসভা কেন্দ্রেও যদি পুলিশ প্রশাসনের কোনো শিথিলতা চোখে পড়ে, তবে এভাবেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


Recent Comments