পশ্চিমবঙ্গে (West Bengal) দ্বিতীয় দফার হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের আগে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো রকম ফাঁক রাখতে নারাজ প্রশাসন। অবাধ ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)। আর সেই কড়া পদক্ষেপের অঙ্গ হিসেবেই পুরোপুরি সিল করে দেওয়া হয়েছে ভারত-বাংলাদেশ (India-Bangladesh) আন্তর্জাতিক সীমান্ত। শুধুমাত্র সীমান্ত সিল করাই নয়, ভোটগ্রহণের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া পর্যন্ত দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সমস্ত রকম আন্তর্জাতিক বাণিজ্যও (International Trade) সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের ৪৮ ঘণ্টা আগে থেকেই এই কড়া নিয়ম জারি করা হয়েছে। মূলত বেআইনি অনুপ্রবেশ, অস্ত্র পাচার এবং বহিরাগতদের বেআইনি প্রবেশের মাধ্যমে যাতে ভোটের দিন কোনো ধরনের অশান্তি বা কারচুপি না হতে পারে, সেই কারণেই প্রশাসনের এই চরম সতর্কতা। সীমান্তে বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বা বিএসএফ (BSF) জওয়ানদের টহলদারি বহুগুণ বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি চেকপোস্টে চলছে কড়া নজরদারি। রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর মধ্যে নিরন্তর সমন্বয়ের মাধ্যমে এই নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয় তৈরি করা হয়েছে।
সীমান্ত সিল করার সরাসরি এবং তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়েছে দুই দেশের অর্থনৈতিক আদান-প্রদানের ওপর। এশিয়ার (Asia) অন্যতম বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোল-বেনাপোল (Petrapole-Benapole) দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার কোটি টাকার পণ্য আমদানি ও রপ্তানি হয়। কিন্তু নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশে এই স্থলবন্দর দিয়েও সমস্ত ধরনের পণ্যবাহী ট্রাকের যাতায়াত আপাতত স্তব্ধ হয়ে গেছে। পেট্রাপোল সীমান্তে এই মুহূর্তে কয়েকশো ট্রাক সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ব্যবসায়ীদের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, ভোট মিটে যাওয়ার পর পুনরায় বাণিজ্য স্বাভাবিক হলে এই যানজট কাটতে আরও কয়েকদিন সময় লেগে যেতে পারে। এছাড়া হিলি (Hili), চ্যাংড়াবান্ধা (Changrabandha) এবং ফুলবাড়ীর (Phulbari) মতো অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকাগুলোতেও একই নিস্তব্ধ চিত্র দেখা যাচ্ছে।
বাণিজ্যের পাশাপাশি সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের ক্ষেত্রেও জারি হয়েছে কড়া নিষেধাজ্ঞা। ঢাকা (Dhaka) থেকে কলকাতা (Kolkata) কিংবা উল্টোদিকের যাত্রীরা যারা আগে থেকেই বাসের টিকিট কেটে রেখেছিলেন, তারা অনেকেই সীমান্তে এসে চরম অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। তবে প্রশাসন সূত্রে খবর, অত্যন্ত জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত কারণ (Medical Emergency) ছাড়া কোনো যাত্রীকেই এই মুহূর্তে সীমান্ত পেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। ইমিগ্রেশন চেকপোস্টগুলোতে কর্মীদের উপস্থিতি থাকলেও সাধারণ পারাপারের কাজ একেবারেই স্থগিত রয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের যে সমস্ত জেলায় দ্বিতীয় দফায় ভোটগ্রহণ হতে চলেছে, তার মধ্যে বেশ কয়েকটি জেলার সাথে বাংলাদেশ (Bangladesh) এর দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে। বিশেষ করে উত্তর ২৪ পরগনা (North 24 Parganas), নদীয়া (Nadia), মালদহ (Maldah) এবং মুর্শিদাবাদের (Murshidabad) মতো জেলাগুলিতে আন্তর্জাতিক সীমানা অত্যন্ত স্পর্শকাতর হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সমস্ত এলাকায় শুধুমাত্র কাঁটাতারের বেড়া নয়, নদীপথ বা জলপথের সীমান্ত (Riverine Border) দিয়েও যাতে কোনো অনুপ্রবেশ না ঘটে, তার জন্য স্পিডবোটের মাধ্যমে দিনরাত টহলদারি চলছে। রাতের বেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে অত্যাধুনিক নাইট ভিশন ক্যামেরা (Night Vision Camera) এবং ড্রোন।


Recent Comments