ইরান ও আমেরিকার মধ্যে চলমান যুদ্ধের আবহেই উত্তপ্ত হয়ে উঠল ওয়াশিংটন। যুদ্ধের উদ্দেশ্য এবং ক্রমবর্ধমান ব্যয় নিয়ে প্রথমবারের মতো কংগ্রেসের মুখোমুখি হলেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ। বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) হাউস আর্মড সার্ভিসেস কমিটির শুনানিতে ডেমোক্র্যাট সদস্যরা তাঁকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়ে একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নে বিদ্ধ করেন।
প্রতিরক্ষা সচিব হেগসেথ যখন ২০২৭ সালের জন্য ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারের ঐতিহাসিক সামরিক বাজেট প্রস্তাব পেশ করেন, তখন ডেমোক্র্যাট সদস্যরা সরব হন। তাঁদের প্রধান অভিযোগ, কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন ছাড়াই এই ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করা হয়েছে, যার লক্ষ্য এখনও অস্পষ্ট। এই শুনানিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়।
একই দিনে তেহরানকে কড়া বার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে দ্রুত ‘বুদ্ধিমান’ হওয়ার পরামর্শ দিয়ে পরমাণু কর্মসূচির ওপর আমেরিকার কঠোর শর্তাবলী মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ইরানের অর্থনীতির ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধ আরও কয়েক মাস চলতে পারে। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, হরমোজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য ইরানের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাবটিও খারিজ করে দিয়েছেন তিনি।
এদিকে, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইরানের ওপর নতুন করে সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে ট্রাম্পকে সতর্ক করেছেন। ক্রেমলিন সূত্রে জানানো হয়েছে, দুই নেতার মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথনের সময় পুতিন বলেন, আমেরিকা ও ইসরায়েল যদি আবারও সামরিক পথে হাঁটে, তবে তার ফল শুধু ইরান বা তার প্রতিবেশীদের জন্য নয়, বরং পুরো আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর হবে।
যুদ্ধের এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দক্ষিণ এশিয়ায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক অবস্থায় দক্ষিণ এশিয়ায় শক্তির ভারসাম্য পাকিস্তানের দিকে ঝুঁকে পড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে, হরমোজ প্রণালী নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেওয়ায় ভারত তার সামুদ্রিক সম্প্রসারণ পরিকল্পনা দ্রুততর করছে।


Recent Comments