পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) রাজ্য রাজনীতিতে এই মুহূর্তে সবথেকে বড় চর্চার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে বিরোধী দলনেতার আপ্ত সহায়কের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনা। ভারত (India) -এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এই ঘটনা যথেষ্ট আলোড়ন ফেলেছে। শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)-র ব্যক্তিগত সহকারী চন্দ্রনাথ রথ (Chandranath Rath)-কে অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় যেভাবে খুন করা হয়েছে, তা রীতিমতো শিহরণ জাগানোর মতো। তদন্তে নেমে পুলিশ আধিকারিকরা এমন কিছু তথ্য হাতে পেয়েছেন, যা প্রমাণ করে এই খুনের পিছনে ছিল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত এক নীল নকশা।
সাধারণ কোনও দুষ্কৃতী নয়, বরং রীতিমতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত সুপারি কিলার দিয়ে এই অপারেশন চালানো হয়েছিল। কীভাবে আততায়ীরা এই রোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটাল এবং তারপর কোন পথ ধরে তারা চম্পট দিল, সেই ভয়ঙ্কর ‘গেম প্ল্যান’ এখন তদন্তকারীদের আতস কাঁচের নীচে।পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, ঘটনার দিন চন্দ্রনাথবাবুর গাড়ি দোহাড়িয়া (Doharia) এলাকার দিকে এগোচ্ছিল। সারাদিনের ব্যস্ততা সেরে নিজের সাদা রঙের স্করপিও গাড়িতে করে বাড়ির দিকেই ফিরছিলেন তিনি।
কিন্তু তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি যে, মৃত্যুর পরোয়ানা নিয়ে একটি সাদা রঙের গাড়ি অনেকক্ষণ ধরেই তাঁর পিছু নিয়েছে। বাড়ি থেকে আর মাত্র ২০০ মিটার দূরে থাকাকালীন হঠাৎ করেই সামনের দিক থেকে আসা অন্য একটি গাড়ি চন্দ্রনাথবাবুর স্করপিওর রাস্তা সম্পূর্ণ আটকে দাঁড়ায়। পরিস্থিতির আকস্মিকতায় চালক গাড়ির গতি কমাতেই শুরু হয় আসল অপারেশন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানাচ্ছেন, রাস্তা আটকানো মাত্রই ওই গাড়ি থেকে বেশ কয়েকজন আততায়ী বেরিয়ে আসে। নিমেষের মধ্যে তারা আগে থেকে প্রস্তুত রাখা মোটরবাইকে চেপে বসে এবং চন্দ্রনাথের গাড়িকে বাঁ দিক থেকে ঘিরে ফেলে।
এরপরই অত্যন্ত কাছ থেকে, যাকে বলে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ, সেখান থেকে এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করে বন্দুকবাজরা। রিপোর্ট অনুযায়ী, সব মিলিয়ে অন্তত ১৬ রাউণ্ড গুলি চালানো হয়েছে ওইদিন। এত কাছ থেকে এবং এতগুলো গুলি চালানোর একটাই উদ্দেশ্য ছিল— টার্গেট যেন কোনওভাবেই প্রাণে বেঁচে ফিরতে না পারে।অপারেশন শেষ হওয়ার পর আততায়ীরা একটুও সময় নষ্ট করেনি। গুলি চালানোর পরপরই আততায়ীরা বেপরোয়া গতিতে বাইক চালিয়ে ঘটনাস্থল থেকে বেরিয়ে যায়। প্রশ্ন উঠছে, এই পালানোর জন্য কোন পথ তারা আগে থেকে বেছে রেখেছিল?
তদন্তকারী আধিকারিকরা মনে করছেন, মূল রাস্তা এড়িয়ে ভেতরের গলি এবং অপেক্ষাকৃত কম সিসিটিভি থাকা রাস্তাগুলোকেই পালানোর রুট হিসেবে ব্যবহার করেছে দুষ্কৃতীরা। ইতিমধ্যেই শিলিগুড়ি (Siliguri) পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন গোয়েন্দারা। হাইওয়ে এবং টোল প্লাজাগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কীভাবে ওই সাদা গাড়ি এবং বাইকগুলো শহরের বাইরে বেরিয়ে গেল, তার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চলছে।


Recent Comments