নিজস্ব সংবাদদাতা: রবিবার মধ্যপ্রদেশে চলন্ত রাজধানী এক্সপ্রেসে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই সোমবার সকালে ফের ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল। এবার বিহারের রোহতাস জেলায় সাসারাম জংশনে দাঁড়িয়ে থাকা ভভুয়া–সাসারাম–পাটনা ইন্টারসিটি এক্সপ্রেসের একটি কোচে আচমকাই আগুন ধরে যায়। মুহূর্তের মধ্যে সেই আগুন ভয়াবহ আকার নেয় এবং গোটা প্ল্যাটফর্মজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল প্রায় ৭টা নাগাদ ট্রেনটি সাসারাম স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল। সেই সময় হঠাৎ একটি কামরা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়। কয়েক মিনিটের মধ্যেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এতটাই ভয়াবহ হয়ে ওঠে যে একটি পুরো বগি সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পাশের আরেকটি বগিতেও আগুনের প্রভাব পড়ে বলে জানা গিয়েছে।
আগুন লাগার খবর ছড়িয়ে পড়তেই যাত্রীদের মধ্যে হুড়োহুড়ি শুরু হয়ে যায়। আতঙ্কিত যাত্রীরা দ্রুত ট্রেন থেকে নেমে নিরাপদ জায়গায় সরে যান। আগুন লাগা কামরার যাত্রীরাও প্রাণ বাঁচাতে তড়িঘড়ি ট্রেন ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছয় দমকল বাহিনী ও রেল পুলিশ। দীর্ঘ চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
রেল পুলিশের দাবি, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে কী কারণে আগুন লাগল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শর্ট সার্কিট নাকি অন্য কোনও যান্ত্রিক ত্রুটি—সবদিক খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু করেছে রেল কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, এর ঠিক একদিন আগেই মধ্যপ্রদেশে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের মুখে পড়ে দিল্লিগামী রাজধানী এক্সপ্রেস। তিরুবনন্তপুরম থেকে হজরত নিজামুদ্দিনগামী ১২৪৩১ নম্বর রাজধানী এক্সপ্রেস রতলাম স্টেশন ছাড়ার পর আলোট ও বিক্রমগড় স্টেশনের মাঝামাঝি এলাকায় বিপদের মুখে পড়ে। ভোর সাড়ে ৫টা নাগাদ ট্রেনের ‘বি-১’ কোচে আচমকাই আগুন লাগে। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে ট্রেনের গার্ড দ্রুত লোকো পাইলটকে সতর্ক করেন এবং সঙ্গে সঙ্গে ট্রেন থামিয়ে দেওয়া হয়।
প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় রাজধানী এক্সপ্রেসের দুটি কোচ সম্পূর্ণ ভস্মীভূত হয়ে যায়। যদিও রেলকর্মীদের তৎপরতায় বড়সড় দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয় এবং কোনও প্রাণহানির খবর মেলেনি। তবে এই ঘটনার জেরে দিল্লি-মুম্বাই রুটে ট্রেন চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
টানা দু’দিনে দুই ট্রেনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় যাত্রী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। রেলের তরফে দুই ঘটনাতেই তদন্ত শুরু হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কড়া করার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

Recent Comments