নিজস্ব সংবাদদাতা : আরজি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের চিকিৎসক ধর্ষণ ও খুনের বহুল আলোচিত মামলায় নতুন করে তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। বৃহস্পতিবার বিচারপতি শম্পা সরকার ও তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ সিবিআইয়ের পূর্বাঞ্চলীয় যুগ্ম অধিকর্তার নেতৃত্বে একটি নতুন বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের নির্দেশ দেয়। আদালতের এই নির্দেশে মামলার তদন্তে নতুন মাত্রা যোগ হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
হাইকোর্ট স্পষ্ট জানিয়েছে, ঘটনার রাতে নিহত তরুণী চিকিৎসক ডিনারের পর কী করেছিলেন, কোথায় গিয়েছিলেন এবং তাঁর গতিবিধির প্রতিটি পর্যায় নতুন করে খতিয়ে দেখতে হবে। সেই সময়ের ঘটনাপ্রবাহ ও সম্ভাব্য সমস্ত সূত্রকে তদন্তের আওতায় আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে নতুন SIT যে কোনও সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে বলেও আদালত জানিয়েছে।
এছাড়াও আগামী ২৫ জুনের মধ্যে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত রিপোর্ট আদালতে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সিবিআইকে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্ট মাসে কলকাতার আরজি কর হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ সামনে আসতেই দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। ঘটনায় সঞ্জয় রায় নামে এক সিভিক ভলান্টিয়ারকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং পরবর্তীতে আদালত তাকে আমৃত্যু কারাদণ্ডের সাজা দেয়। তবে শুরু থেকেই তদন্তের নিরপেক্ষতা ও পূর্ণতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল নির্যাতিতার পরিবার।
পরিবারের অভিযোগ ছিল, প্রকৃত সত্য এখনও সামনে আসেনি এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলের ভূমিকা খতিয়ে দেখা হয়নি। সেই কারণেই নতুন তদন্তকারী দল গঠন করে মামলার পুনর্তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন নিহত চিকিৎসকের বাবা-মা। তাঁদের আবেদনের ভিত্তিতেই বিষয়টি হাইকোর্টে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচিত হয়।
এর আগে গত ১২ মে বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা ও রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ মামলাটির দ্রুত শুনানির প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে অন্য বেঞ্চে পাঠিয়ে দেয়। বর্তমানে বিচারপতি শম্পা সরকার ও বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের বেঞ্চে মামলার শুনানি চলছে।
হাইকোর্টের এই নির্দেশের ফলে বহুদিন ধরে চলা বিতর্ক ও প্রশ্নের মাঝে নতুন করে আশার আলো দেখছেন নিহত চিকিৎসকের পরিবারের সদস্যরা। নতুন SIT-এর তদন্তে মামলার অজানা দিকগুলি সামনে আসবে কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজ্যবাসীর।

Recent Comments