back to top
Sunday, June 14, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিআদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না অভিষেক, নির্বাচনী মন্তব্যের মামলায় রক্ষাকবচ...

আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশ ছাড়তে পারবেন না অভিষেক, নির্বাচনী মন্তব্যের মামলায় রক্ষাকবচ দিয়েও কড়া নির্দেশ হাইকোর্টের

২১ মে ২০২৬- নির্বাচনী সভায় বিতর্কিত মন্তব্যের জেরে দায়ের হওয়া এফআইআর (FIR) মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে অন্তর্বর্তীকালীন রক্ষাকবচ দিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে আইনি সুরক্ষা দিলেও তৃণমূল নেতার বিদেশযাত্রার ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, হাইকোর্টের অনুমতি ছাড়া তিনি দেশ ছাড়তে পারবেন না।


বৃহস্পতিবার (২১ মে) কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের একক বেঞ্চ এই গুরুত্বপূর্ণ অন্তর্বর্তীকালীন নির্দেশ দেন।
আদালতের কড়া নির্দেশনাবলী ও শর্তসমূহ
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দায়ের করা এফআইআর খারিজের মামলার শুনানিতে হাইকোর্ট নিম্নলিখিত নির্দেশগুলি জারি করেছে:-
আগামী ৩১ জুলাই, ২০২৬ পর্যন্ত অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোনও রকম কঠোর আইনি পদক্ষেপ (Coercive Action) বা গ্রেফতারি পদক্ষেপ নিতে পারবে না পুলিশ।


এই অন্তর্বর্তীকালীন সময়ের মধ্যে আদালতের আগাম অনুমতি ছাড়া অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দেশের বাইরে যেতে পারবেন না।
এই আইনি সুরক্ষা বজায় থাকার প্রধান শর্ত হলো, সাংসদকে পুলিশের তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তদন্তে অসহযোগিতা করা হলে রাজ্য পুলিশ পুনরায় আদালতের দ্বারস্থ হতে পারবে।

পুলিশ যদি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে তলব করে, তবে অন্তত ৪৮ ঘণ্টা আগে নোটিস পাঠাতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রচার চলাকালীন গত ৭ এপ্রিল কলকাতার একটি রোড-শোতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় একটি মন্তব্য করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি বিরোধীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন,
“দেখে নেব ৪ মে কে বাঁচাতে আসে। দেখব দিল্লি থেকে কোন গডফাদার এসে রক্ষা করে।” (অভিযোগকারীর দাবি, এখানে ‘গডফাদার’ বলতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ইঙ্গিত করা হয়েছিল)।


এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে গত ৫ মে রাজীব সরকার নামে এক ব্যক্তি বাগুইআটি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন। পরবর্তীতে বিধাননগর উত্তর সাইবার ক্রাইম থানায় ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-র ১৯৬ (শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ানো), ৩৫১ (অপরাধমূলক ভীতিপ্রদর্শন), এবং ৩৫৩(১)(সি) (ঘৃণা ছড়ানোর উদ্দেশ্যে মিথ্যা বা উস্কানিমূলক তথ্য প্রচার) ধারায় এবং জনপ্রতিনিধিত্ব আইনের নির্দিষ্ট ধারায় অ-জামিনযোগ্য মামলা রুজু করা হয়। এই এফআইআর খারিজের আবেদন জানিয়েই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হন অভিষেক।

আরো পড়ুন:  Abhishek’s post with Sikandar Abu Zafar quote: সিকান্দার আবু জাফরের উক্তি-সহ পোস্ট অভিষেকের


আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ


শুনানির সময় অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল করে এই মামলাটিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ ও প্রতিহিংসামূলক বলে দাবি করেন।
তবে শুনানিতে তৃণমূল সাংসদের করা ওই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য। তিনি তাঁর পর্যবেক্ষণে বলেন:
“একজন দায়িত্বশীল সংসদ সদস্য (MP) হওয়া সত্ত্বেও এই ধরনের মন্তব্য কীভাবে করা যেতে পারে? আমি আবারও বলছি, এই ধরণের মন্তব্য একেবারেই অনভিপ্রেত এবং অনাকাঙ্ক্ষিত ছিল।”


আদালত মন্তব্যের সমালোচনা করলেও, সামগ্রিক আইনি দিক বিবেচনা করে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে শর্তসাপেক্ষে ৩১ জুলাই পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন আইনি সুরক্ষা বা রক্ষাকবচ মঞ্জুর করেছে এবং মামলার পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করেছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments