বিয়ে বাড়িতে আনন্দ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে চরম নৃশংসতার শিকার হতে হয়েছিল এক নাবালিকাকে। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর অবশেষে ন্যায়বিচার পেল নির্যাতিতার পরিবার। ২০২১ সালে জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে এক নাবালিকাকে গণধর্ষণের ঘটনায় দুই ক্যাটারিং কর্মীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিল জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো (POCSO) আদালত। কারাদণ্ডের পাশাপাশি দোষীদের জরিমানার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক।
কী ঘটেছিল ২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল?
পকসো আদালতের বিশেষ সরকারি আইনজীবী দেবাশিস দত্ত জানান, ঘটনাটি ঘটে ২০২১ সালের ২৪ এপ্রিল। ময়নাগুড়ি থানা এলাকায় মামার বাড়িতে একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে বাবা-মায়ের সঙ্গে এসেছিল ওই নাবালিকা।
বিয়ের ‘জলভরা’ অনুষ্ঠানে পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়দের সঙ্গে গিয়েছিল ওই নাবালিকা। অভিযোগ, সেই ভিড়ের মাঝখান থেকেই আচমকা নিখোঁজ হয়ে যায় সে।
পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পরেও তার কোনো সন্ধান পাননি। গভীর রাতে বিয়েবাড়ি থেকে কিছুটা দূরে একটি ফাঁকা বাড়ির সামনে তাকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরদিন সকালে ওই নাবালিকা তার মাকে গোটা ঘটনার কথা খুলে বলে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জলভরার অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে তিন জন মিলে তাকে জোর করে একটি ফাঁকা বাড়িতে তুলে নিয়ে যায় এবং সেখানে আটকে রেখে তাকে গণধর্ষণ করা হয়।
কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে ময়নাগুড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে পুলিশ তদন্তে নামে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ একে একে তিনজনকে গ্রেফতার করে। তদন্তে উঠে আসে, ধৃতদের মধ্যে দু’জন ক্যাটারিংয়ের কর্মী এবং একজন নাবালক, যে বিয়েবাড়িতে ডেকোরেশনের কাজ করতে এসেছিল।
আদালতের রায় ও সাজা
বৃহস্পতিবার দীর্ঘ শুনানির পর জলপাইগুড়ির বিশেষ পকসো আদালত এই মামলার চূড়ান্ত রায়দান করে। ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দুই ক্যাটারিং কর্মীকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।
কারাদণ্ডের পাশাপাশি উভয়কেই ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানাও করা হয়েছে। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত তৃতীয় অভিযুক্ত যেহেতু নাবালক ছিল, তাই তার বিচার প্রক্রিয়া বর্তমানে জলপাইগুড়ি জুভেনাইল কোর্টে (Juvenile Court) চলছে।
আদালতের এই কড়া রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। এই রায় নারী সুরক্ষার ক্ষেত্রে এবং সমাজের এই ধরনের অপরাধীদের কাছে একটি কড়া বার্তা পৌঁছে দেবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।


Recent Comments