নিজস্ব সংবাদদাতা: শিলিগুড়ির ভক্তিনগর থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা এক যুবকের আত্মহত্যার চেষ্টার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগ, থানার ভিতরেই তিনি নিজের গলায় ধারালো অস্ত্র চালিয়ে আত্মঘাতী হওয়ার চেষ্টা করেন। ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ মহলে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে একটি ঘটনার তদন্তের সূত্রে ওই যুবককে ভক্তিনগর থানায় নিয়ে আসা হয়েছিল। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের পর তাঁকে ছেড়ে দেওয়ার কথাই ছিল। কিন্তু দুপুরের দিকে আচমকাই পরিস্থিতির মোড় ঘুরে যায়। থানার কর্মীরা লক্ষ্য করেন, যুবকের গলায় একাধিক ক্ষতচিহ্ন রয়েছে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় রয়েছেন।
এরপর দ্রুত তাঁকে থানার নীচে নিয়ে এসে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়। পুলিশকর্মীরাই তাঁর গলায় ব্যান্ডেজ বেঁধে রক্তপাত বন্ধের চেষ্টা করেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, এক পুলিশকর্মী তাঁকে বলতে শোনা যায়, “তোমাকে তো আজ ছেড়ে দেওয়া হতো, এমন কাজ করলে কেন?”
পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, যুবকটি দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত। অতীতেও তাঁর বিরুদ্ধে মাদক সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগ ওঠার কথা জানা গিয়েছে। যদিও তাঁর পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনার সৈয়দ ওয়াকার রাজা জানান, বৃহস্পতিবার সকালেই ওই যুবককে থানায় আনা হয়েছিল। কিছুক্ষণ পর তাঁকে সামান্য আহত অবস্থায় দেখা যায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর বর্তমানে তাঁকে পুলিশের নজরদারিতেই রাখা হয়েছে। পাশাপাশি তিনি কোনও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অপরাধের প্রমাণ না মিললে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন কমিশনার।
উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৩ তারিখ শিলিগুড়ি পুলিশ কমিশনারেটে একটি অ্যান্টি-নারকোটিক টাস্ক ফোর্স গঠন করা হয়েছে। মাদক সংক্রান্ত অপরাধ ও মাদকাসক্তদের নিয়ে বাড়তে থাকা সমস্যার মোকাবিলায় এই বিশেষ বাহিনী কাজ শুরু করেছে। তবে এই ধরনের ঘটনাগুলি পুলিশের কাছে নতুন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। কীভাবে থানার ভিতরে ওই যুবক ধারালো বস্তু পেলেন এবং ঠিক কী পরিস্থিতিতে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

Recent Comments