দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের অস্বাভাবিক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়াল এলাকায়। শনিবার সকালে তাঁর বাড়ি থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারের ঘটনায় রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। এরই মধ্যে তৃণমূল কংগ্রেস নেতা কুণাল ঘোষের এক বিস্ফোরক দাবি ঘিরে নতুন করে শোরগোল পড়েছে।
কী অভিযোগ কুণাল ঘোষের?
শনিবার কামারহাটির সাগর দত্ত মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্তের সময় উপস্থিত ছিলেন বিধায়ক কুণাল ঘোষ। সেখানেই তিনি দাবি করেন যে, প্রয়াত কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের কাছে ১০ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল। কুণাল ঘোষের অভিযোগ, এই বিশাল অঙ্কের টাকা দেওয়ার জন্য সঞ্জয় দাসের ওপর ক্রমাগত মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। সেই চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মঘাতী হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন কুণাল।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
শনিবার সকালে দক্ষিণ দমদম পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাসের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয় তাঁর বাড়ি থেকে। তড়িঘড়ি তাঁকে নাগেরবাজারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন। প্রাথমিক তদন্তে এটি আত্মহত্যার ঘটনা বলে পুলিশের অনুমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ব্যারাকপুর সাংগঠনিক জেলার নেতা দেবরাজ চক্রবর্তীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন সঞ্জয় দাস। গত সপ্তাহে দেবরাজ চক্রবর্তী গ্রেফতার হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক মহলে নানা জল্পনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনার জেরে এবং দেবরাজ চক্রবর্তীর নাম বিভিন্ন দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে পড়ায় সঞ্জয় দাস বেশ কিছু দিন ধরেই মানসিক অবসাদে ভুগছিলেন। তাঁকে খুব বেশি মানুষের সাথে কথা বলতেও দেখা যায়নি।
দমদম এলাকার কয়েকজন তৃণমুল কর্মীরদের অভিযোগ অনুসারে সঞ্জয়ের কোনো এক ঘনিষ্ট আত্মীয় পুরসভার ঠিকাদারি কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বকলমে সঞ্জয় সেগুলোই চালাতেন। স্থানীয় এলাকার অনেক মানুষই মনে করেন দেবরাজের ” ঘনিষ্ট ” হওয়ারই সুযোগ নিতেন তিনি।
অন্যদিকে দক্ষিণ দমদম এলাকার ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল সভাপতি কিরণ ভট্টাচার্য একদম অন্য অভিযোগ জানান। তাঁর সন্দেহ জাগে তৃণমূল ছেড়ে সদ্য বিজেপিতে যোগ করা কিছু স্থানীয় কর্মীদের ওপর। তাঁর কথা অনুসারে কয়েকদিন আগেই সঞ্জয়ের কাছ থেকে ১০ লক্ষ টাকা চাওয়া হয়েছিল। কারা চেয়েছিল প্রশ্ন করতে তিনি জানান “ওঁরা বিজেপির পুরনো কর্মী নন। ৪ তারিখ ফলঘোষণার দিন বেলা ১২টার পরে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি হওয়া লোকজন (করেছেন)।”
পোস্টার বিতর্ক
সূত্রের খবর, সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনের পর থেকেই বিভিন্ন এলাকায় সঞ্জয় দাসের বিরুদ্ধে একাধিক পোস্টার দেখা গিয়েছিল। তোলাবাজি ও ভোট-পরবর্তী হিংসার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। পোস্টারে সঞ্জয় দাসের উদ্দেশ্যে ‘বেআইনি ভাবে দখল করা’ জমি ফেরত দেওয়ার কথা বলা হয়। জানা গেছে একারণে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়। তথ্য অনুযায়ী এই ঘটনাটি পুলিশকেও জানানো হয়েছিলো ।এই সমস্ত ঘটনার জেরে তিনি যে মানসিক চাপে ছিলেন, তা-ই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
তদন্ত শুরু পুলিশের
পুলিশ সূত্রে জানানো হয়েছে, ঘটনায় একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে কোনো সুইসাইড নোট উদ্ধার হয়েছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তদন্তকারীরা পরিবারের সদস্যদের সাথে কথা বলছেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির পাশাপাশি কাউন্সিলরের ব্যক্তিগত জীবনের দিকগুলিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই ঘটনায় দক্ষিণ দমদমের রাজনৈতিক আঙিনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং পুরো বিষয়টি নিয়ে এখন ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।


Recent Comments