আরজি কর কাণ্ডের আবহে এবার আরও বিপাকে পড়লেন চিকিৎসক অভীক দে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতর এবং রাজ্যপাল আর এন রবির নির্দেশনায় তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিকভাবে বিভাগীয় তদন্ত (Departmental Proceedings) শুরু করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে ‘থ্রেট কালচার’ বা হুমকি সংস্কৃতির অন্যতম হিসেবে পরিচিত এই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পথ প্রশস্ত হওয়ায় প্রশাসনিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, পূর্ব বর্ধমান জেলার, বধর্মান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের রেডিওডায়াগনোসিস বিভাগের প্রাক্তন আরএমও (RMO) ছিলেন অভিক দে এবং পরবর্তী কালে তিনি কলকাতার আইপিজিএমইআর (SSKM) হাসপাতালে জেনারেল সার্জারির প্রথম বর্ষের ইন-সার্ভিস পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি হিসেবে যুক্ত হন।
অভিকের বিরূদ্ধে তদন্ত করার নির্দেশ দেওয়ার পর বিজেপির ইন্দ্রনীল খাঁ বলেন, “ তিলোত্তমার বিচার প্রক্রিয়ায় যাঁরা বাধার সৃষ্টি করেছিলেন, সবার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হবে। অনেক দিন আগে এই কাজ হওয়া উচিত। এটি এখন শুরু হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলে দিয়েছেন দুর্নীতিগ্রস্তদের ছাড় দেওয়া হবে না। যথাস্থানে এদের জায়গা হবে।” এছাড়াও আর জি কর আন্দোলনের সময় একটি অন্যতম মুখ অনিকেত মাহাতো বলেন “এই অভীক দে মেডিক্যাল কলেজগুলিতে থ্রেট কালচারের জনক। এদের কঠোর থেকে কঠোরতম শাস্তি হওয়া উচিত।”
গত বছরের ৫ সেপ্টেম্বর আরজি কর সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে অভীক দে-কে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত (Suspended) করা হয়েছিল। শুক্রবার রাতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতরের মেডিক্যাল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (MES) শাখা থেকে জারি করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রশাসনিক মহলের ধারণা, এই তদন্তের শেষে তাঁর চাকরি খোয়ানোর সম্ভাবনা প্রবল।
তদন্তের মূল ক্ষেত্রগুলি:
১. থ্রেট কালচার ও দুর্নীতি: অভীক দে-র বিরুদ্ধে ৩২ দফা অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে থ্রেট কালচার, মর্গে দুর্নীতি, চিকিৎসকদের বদলিতে অযাচিত হস্তক্ষেপ, নিয়মিত ক্লাস বা ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকা এবং রোগী না দেখা-সহ নানাবিধ অনিয়মের অভিযোগ। আরজি করের ঘটনার সময় সেমিনার রুমে তাঁর উপস্থিতি ঘিরেও তীব্র বিতর্ক দানা বেঁধেছিল।
২. সার্ভিস কোটা বিতর্ক: তিনি ঠিক কীভাবে এবং কোন প্রভাবশালী মহলের হাত ধরে ‘সার্ভিস কোটা’ ব্যবহার করে কলকাতার এসএসকেএম (SSKM) হাসপাতালে স্নাতকোত্তর (PG) কোর্সে ভর্তির সুযোগ পেলেন, তা নিয়ে একটি পৃথক উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। সরকারি চাকরিতে থাকাকালীন যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে এই আসন হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখাই এই তদন্তের মূল লক্ষ্য।
ইতিমধ্যেই এই চাঞ্চল্যকর নির্দেশনার প্রতিলিপি রাজ্যের স্বাস্থ্য শিক্ষা দফতর (DME), ডিরেক্টরেট অফ হেলথ সার্ভিসেস (DHS), সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং স্বাস্থ্য দফতরের ভিজিল্যান্স শাখায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছেন আরজি কর আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা। তাঁদের মতে, চিকিৎসাক্ষেত্রে প্রভাব খাটিয়ে যে হুমকি সংস্কৃতির জন্ম দেওয়া হয়েছিল, তা উপড়ে ফেলতে এই ধরণের কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি ছিল। সামগ্রিক ঘটনায় অস্বস্তিতে অভীক দে এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ ‘উত্তরবঙ্গ লবি’-র অন্যান্য সদস্যরা।


Recent Comments