নির্বাচনী প্রচারে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে শীর্ষস্থানীয় বিজেপি (BJP) নেতাদের মুখে বারবার ‘ডাবল ইঞ্জিন’ (Double Engine) সরকারের কথা শোনা গিয়েছে—অর্থাৎ কেন্দ্র এবং রাজ্যে একই দলের সরকার। কিন্তু এবার জঙ্গলমহলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা পুরুলিয়া (Purulia)-তে গেরুয়া শিবিরের মুখে শোনা গেল ‘থার্ড ইঞ্জিন’ (Third Engine)-এর কথা। শুক্রবার জেলা বিজেপির এক রুদ্ধদ্বার সাংগঠনিক বৈঠকের পর নেতাদের মুখে ঘুরেফিরে আসছে একটি বিশেষ গাণিতিক হিসেব—১৭০-০। আর এই সমীকরণ ঘিরেই এখন রাজনৈতিক মহলে তুমুল কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
১৭০-০ সমীকরণ আসলে কী?
পুরুলিয়ায় অনুষ্ঠিত জেলা বিজেপির এই বৈঠকটি ছিল মূলত ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক রূপরেখা এবং সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে। এই বৈঠকের নির্যাস হিসেবেই উঠে আসে ১৭০-০ সমীকরণটি। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই সমীকরণের হিসেবটি অত্যন্ত স্পষ্ট। পুরুলিয়া জেলায় মোট গ্রাম পঞ্চায়েতের সংখ্যা ১৭০টি। বিজেপির স্থানীয় নেতৃত্বের নয়া লক্ষ্য হলো—আগামী দিনে জেলার সবকটি অর্থাৎ ১৭০টি গ্রাম পঞ্চায়েতেই পদ্মফুল ফোটানো এবং বিরোধী শক্তি, বিশেষ করে রাজ্যের শাসকদলকে একেবারে শূন্যে (০) নামিয়ে আনা।
কেন ‘থার্ড ইঞ্জিন’ তত্ত্ব?
কেন্দ্রীয় সরকার এবং রাজ্য সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন বা পঞ্চায়েত ব্যবস্থাকেই ‘তৃতীয় ইঞ্জিন’ হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে বিজেপি। দলের একাংশের মতে, শুধুমাত্র উপরতলায় ক্ষমতায় থাকলেই সাধারণ মানুষের কাছে সরকারি প্রকল্পের সমস্ত সুবিধা সরাসরি পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয় না, যদি না পঞ্চায়েত বা তৃণমূল স্তরের প্রশাসন নিজেদের হাতে থাকে। তাই পুরুলিয়ার মতো পিছিয়ে পড়া জেলায় উন্নয়নের গতি ত্বরান্বিত করতে এই ‘থার্ড ইঞ্জিন’ অর্থাৎ পঞ্চায়েত ব্যবস্থায় নিজেদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য কায়েম করাটাই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।
পুরুলিয়ার কৌশলগত রাজনৈতিক গুরুত্ব
জঙ্গলমহলের প্রাণকেন্দ্র পুরুলিয়া গত কয়েক বছর ধরেই রাজ্য রাজনীতির অন্যতম এপিসেন্টার। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এই জেলায় বিজেপি অভূতপূর্ব সাফল্য পেয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) নিজেদের হারানো জমি অনেকটাই পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ফলে এই জেলায় দুই দলের মধ্যেই প্রবল রাজনৈতিক রেষারেষি এবং ভোটব্যাঙ্ক দখলের লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
এই পরিস্থিতিতে, শুক্রবারের বৈঠকের পর বিজেপির ‘মিশন ১৭০’ বা ১৭০-০ সমীকরণ আদতে তৃণমূল স্তরের কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করার একটি সুপরিকল্পিত কৌশল বলেই মনে করা হচ্ছে। বুথ স্তরের সংগঠনকে আরও মজবুত করে প্রতিটি গ্রামে পৌঁছানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে নেতৃত্ব তরফ থেকে।


Recent Comments