back to top
Monday, May 25, 2026
Leaderboard Ad Space (728x90) - Responsive
Homeরাজ্য ও রাজনীতিফলতার উপনির্বাচনের ফলে বামপন্থার পুনরুত্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত, দাবি মহম্মদ সেলিমের

ফলতার উপনির্বাচনের ফলে বামপন্থার পুনরুত্থানের স্পষ্ট ইঙ্গিত, দাবি মহম্মদ সেলিমের

দীর্ঘ বিরতির পর দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা বিধানসভা কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত পুনর্নির্বাচন রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গত ২৯ শে এপ্রিল ফলতাতে নির্বিঘ্নে ভোট না হওয়ায় পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছিল কমিশন। গতকাল অর্থাৎ ২৪ শে মে তারই ফলাফল প্রকাশ পায়।

২২ রাউন্ড গণনার শেষে বিজেপি ৭১% শতাংশ সিপিএম ১৯.৩৪ শতাংশ এবং কংগ্রেস ৪.৮% ও তৃণমূল কংগ্রেস ৩.৭ শতাংশ ভোট পেয়েছে।অর্থাৎ গণনা অনুসারে দ্বিতীয় স্থানে আছে সিপিএম।

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মোহাম্মদ সেলিম খুশি হয়ে বলেন “ফলতায় আমাদের প্রার্থী শম্ভু কুর্মি এবং সেখানকার আমাদের কর্মী, নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত সকল সাধারণ মানুষ এবং ভোটারদেরকে আমি নতমস্তকে লাল সেলাম জানাই, অভিনন্দন জানাই। আরও ভালো ফল হয়তো হতে পারত, যদি আরও বেশি সময় পেতাম। কিন্তু, তা হয়নি। তৃণমূল যেভাবে একেবারে বরফের মতো গলে যাচ্ছে, গরমে বরফ গলে যাওয়ার মতো। সেই জায়গায় দাঁড়িয়ে আমরা সিপিআইএম, লাল ঝাণ্ডার শক্তিকে সংহত করছি।”

সিপিএমের রাজ্য সম্পাদকের কথা অনুযায়ী, তৃণমূল মূলত একটি আরএসএসের সাজানো বাহিনী ছিল এবং তারা মস্তানি গুন্ডামি করে যা করেছে তাতে মানুষ নিজের মত দিতে পারতো না। তার মতে ফলতার ফলাফল বামপন্থার পুনরুত্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

পশ্চিমবঙ্গের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার মন্তব্য করেন “ফলতার মানুষ যে রায় দিয়েছেন, আমরা তা বিনম্র চিত্তে মাথা পেতে নিলাম। গণতন্ত্রে জনতাই সর্বশক্তিমান, আর ফালতাবাসীর এই সিদ্ধান্তকে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে গ্রহণ করছে। আমরা অঙ্গীকার করছি, ফলতার মানুষের সুখে-দুঃখে, লড়াইয়ে-উন্নয়নে আমরা আগেও ছিলাম, আগামী দিনেও থাকব। আজকের ফলাফল আমাদের কাছে আত্মসমীক্ষার দর্পণ। আমাদের কাজে যে ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়ে গিয়েছে, যে ঘাটতি ধরা পড়ছে, তা নিয়ে দলের প্রতিটি স্তরে গভীর আত্মমন্থন শুরু হয়েছে এবং তা চলবে।”

পাশাপাশি, তিনি রাজনীতির ময়দানে ক্রমবর্ধমান ধর্মীয় মেরুকরণের কড়া সমালোচনা করে জানান , “আমরা দেখতে পাচ্ছি, চারপাশে ধর্মীয় মেরুকরণের রাজনীতি কীভাবে সমাজকে বিভক্ত করছে। একদল যখন হিন্দু ভোটকে একজোট করতে ব্যস্ত, তখন অন্যদল ভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষকে এক ছাতার তলায় আনার চেষ্টা করছে। এই বিভাজনের রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছে: আমরা কোনও বিশেষ ‘ধর্মীয় ফ্লেভার’-এর রাজনীতি করি না, করবও না। আমাদের একমাত্র পথ ধর্মনিরপেক্ষতা, সামাজিক ন্যায় ও সার্বিক উন্নয়নের পথ। কারণ, এই ভারতবর্ষে সকল ধর্ম, সকল মানুষের সমান অধিকারের কথা যদি কেউ আজও বুক চিতিয়ে বলতে পারে, তবে সে একমাত্র ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস। আমরা আবারও দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলছি: জনগণের রায়ই আমাদের কাছে শিরোধার্য। ফলতার মাটি, ফালতার মানুষের প্রতিটি স্বপ্ন ও সংগ্রামের পাশে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ছিল, আছে এবং থাকবে।”

আরো পড়ুন:  এক নজরে বিধানসভা ভোট: আসানসোল থেকে রাজগঞ্জ— হাই-প্রোফাইল কেন্দ্রগুলির চূড়ান্ত ফলাফল

উল্লেখ্য, ফালতার এই পুনর্নির্বাচনের ফলাফলকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক মহলে একদিকে যেমন বামপন্থার ঘুরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে, তেমনি রাজ্যের শাসকদলের ভোটব্যাঙ্ক সংকুচিত হওয়ার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

Author

RELATED ARTICLES
- Advertisment -
Demo Ad
Sponsored Links

Most Popular

Recent Comments