অশোক সেনগুপ্ত
চলচ্চিত্র পরিচালক অনীক দত্তর অস্বাভাবিক মৃত্যুর পর বিভিন্ন ধরণের মতামতের প্রেক্ষিতে সংযত মতামত রাখলেন নির্বাসিত লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
অনীকবাবুর নাম না করে তসলিমা বৃহস্পতিবার সামাজিক মাধ্যমে লিখেছেন, “কেউ আত্মহত্যা করলেই শুরু হয়ে যায় তাৎক্ষণিক বিশেষজ্ঞমত: ‘ডিপ্রেশানে ভুগছিল।’ যেন মানুষের জীবনের সবচেয়ে জটিল ঘটনাকে এক শব্দে ব্যাখ্যা করে ফেলা যায়।
কিন্তু দুঃখ পাওয়া, একা হয়ে যাওয়া, হেরে যাওয়া, ভালোবাসার মানুষকে হারানো, অপমানিত হওয়া, বা কথা বলার কাউকে না পাওয়া—এসব মানুষের জীবনের অভিজ্ঞতা। এগুলো কষ্টের, কখনও অসহনীয়ও। কিন্তু প্রতিটি কষ্টকে “ক্লিনিকাল ডিপ্রেশান” বলা চিকিৎসাবিজ্ঞানও নয়, মানবজীবনের জটিলতাকেও বোঝা নয়।
আবার উল্টো ভুলও হয়। আমরা ভাবি—যার সাফল্য আছে, বন্ধু আছে, হাসিমুখ আছে, তার আত্মহত্যার প্রশ্নই আসে না। অথচ মানসিক ব্যাধি থাকলে মানুষের বাইরের জীবন আর ভেতরের জীবনের মধ্যে আকাশপাতাল দূরত্ব থাকতে পারে।
সমস্যা হলো, আমরা না মানুষকে বুঝি, না মানসিক স্বাস্থ্যকে। আমরা দ্রুত লেবেল দিই—“ডিপ্রেশান ছিল”—এবং তাতেই যেন তদন্ত শেষ।
কিন্তু আত্মহত্যা কোনও এক লাইনের গল্প নয়।”
প্রসঙ্গত ২৭ মে অনীকবাবুর মৃত্যুর পর রাতে এসএসকেএমে আসেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফুলের স্তবক দিয়ে শেষ শ্রদ্ধা জানান। উপস্থিত ছিলেন রুদ্রনীল ঘোষ, ইন্দ্রনীল খাঁ, বাম নেতা শতরূপ ঘোষ, অভিনেত্রী উষসী চক্রবর্তী, বিদীপ্তা চক্রবর্তী, প্রমুখ। বুধবার এই খবর পেয়ে প্রায় গোটা টলিউড চলে এসেছিল ঢাকুরিয়ার কাছে অবস্থিত বেসরকারি হাসপাতালে যেখান প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল অনীক দত্তকে। এসেছিলেন জিতু কামাল, সুদীপা চট্টোপাধ্যায়, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, আবির চট্টোপাধ্যায়, শ্রীলেখা মিত্র, মানসী সিনহা, প্রমুখ। এসেছিলেন মহম্মদ সেলিম, দীপ্সিতা ধর, প্রমুখও।


Recent Comments