চব্বিশের লোকসভা ভোটের পর ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে শাসকদল। আর বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)-র এই অপ্রত্যাশিত পরাজয়ের প্রায় ২৬ দিন পর, অবশেষে ফের সক্রিয় রাজনীতির ময়দানে দেখা যেতে চলেছে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)-কে। আগামী শনিবার, অর্থাৎ ৩০ মে তিনি রাস্তায় নামছেন। ভোট পরবর্তী হিংসায় (Post Poll Violence) নিহত দুই তৃণমূল কর্মীর শোকসন্তপ্ত পরিবারের সাথে দেখা করতে সশরীরে হাজির হবেন তিনি।
তৃণমূল কংগ্রেস (TMC) দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শনিবার অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর দক্ষিণ (Sonarpur South) এবং কলকাতার বেলেঘাটা (Beleghata) বিধানসভা এলাকায় যাবেন। নির্বাচনী ফল প্রকাশের পর এই দুই এলাকায় রাজনৈতিক হিংসার বলি হয়েছেন দুই তৃণমূল কর্মী। সোনারপুর দক্ষিণে নিহত সঞ্জু কর্মকার এবং বেলেঘাটায় নিহত বিশ্বজিৎ পট্টনায়কের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সমবেদনা জানাবেন ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ।
নির্বাচনের পর কেন অন্তরালে ছিলেন অভিষেক?
গত ৪ মে, ২০২৬ তারিখে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সেভাবে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ফলতায় পুনর্নির্বাচনের প্রচারেও তিনি অনুপস্থিত ছিলেন। সেখানে বিজেপি (BJP) বিপুল ভোটে জয়ী হওয়ার পর দলের অন্দরেই তাঁর ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। এমনকি তৃণমূলের প্রবীণ নেতৃত্বের একাংশ দলের তরুণ ব্রিগেডের ভূমিকা ও রণকৌশল নিয়ে প্রকাশ্যেই ক্ষোভ উগরে দেন।
একদিকে যখন রাজ্য জুড়ে আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীদের পাশে অভিষেক কেন দাঁড়াচ্ছেন না, তা নিয়ে দলের অন্দরে ও বাইরে সমালোচনার ফলা চওড়া হচ্ছিল, অন্যদিকে তখন তাঁর নিরাপত্তা প্রত্যাহার থেকে শুরু করে বাড়ির সামনে বিজেপি সমর্থকদের কটাক্ষ ও পুরসভার নোটিশকে কেন্দ্র করে একের পর এক বিতর্ক দানা বাঁধছিল। তবে এই দীর্ঘ ২৬ দিন পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় ছিলেন না তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিট (NEET) পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁস বিতর্ক নিয়ে কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করার পাশাপাশি কালীঘাটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাসভবন সংলগ্ন অফিসে হওয়া গুরুত্বপূর্ণ দলীয় বৈঠকগুলিতে নিয়মিত যোগ দিচ্ছিলেন।
ঘর গোছাতে মরিয়া তৃণমূল, নজরে ড্যামেজ কন্ট্রোল
অবশেষে সমস্ত জল্পনা ও সমালোচনার অবসান ঘটিয়ে সরাসরি বুথ স্তরের কর্মীদের পাশে দাঁড়াতে ময়দানে নামছেন অভিষেক। রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের এই কঠিন পরাজয়ের ধাক্কা সামলে দলের নিচুতলার কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতেই তাঁর এই আকস্মিক সক্রিয়তা। যখন কর্মীরা ভোট পরবর্তী হিংসার শিকার হচ্ছেন, তখন সেনাপতি নিজে মাঠে না নামলে ক্ষোভ আরও বাড়তে পারত— এই সমীকরণ মাথায় রেখেই ড্যামেজ কন্ট্রোলে (Damage Control) নামছে ঘাসফুল শিবির।
শনিবারের এই দুই স্পর্শকাতর এলাকায় অভিষেকের সফরকে কেন্দ্র করে ইতিমধ্যেই কড়া নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতার এই সফর শুধু আক্রান্ত পরিবারগুলির ক্ষোভ প্রশমন করবে না, বরং ছাব্বিশের বিধানসভা বিপর্যয়ের পর তৃণমূলকে নতুন করে ঘুরে দাঁড়ানোর বার্তা দেবে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।


Recent Comments