নিজস্ব সংবাদদাতা : রাজ্যের রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন ইতিহাস লিখল মাটিগাড়া-নকশালবাড়ি। স্বাধীনতার পর এই প্রথম এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কেউ রাজ্যের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেলেন। সোমবার লোক ভবনে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন এলাকার জনপ্রিয় বিধায়ক আনন্দময় বর্মন। আর সেই মুহূর্ত থেকেই উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়ে গোটা এলাকায়।
দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়ন ও প্রশাসনিক গুরুত্ব থেকে বঞ্চিত বলে মনে করত এলাকার মানুষ। তাই আনন্দময় বর্মনের মন্ত্রী হওয়াকে অনেকেই নতুন সম্ভাবনার দরজা খোলার ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন। সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং শান্ত স্বভাবের জন্য তিনি আগে থেকেই এলাকায় বিশেষ জনপ্রিয়।
শপথ গ্রহণের পর আনন্দময় বর্মন জানান, তাঁর প্রথম লক্ষ্য হবে মাটিগাড়া-নকশালবাড়িকে আরও আধুনিক ও সুসংগঠিত এলাকায় পরিণত করা। নাগরিক পরিষেবার উন্নয়ন, পরিকাঠামো বৃদ্ধি এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতার উপর বিশেষ জোর দেওয়ার কথাও বলেন তিনি। পাশাপাশি এলাকার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় নতুন পুরসভা গঠন বা পুরনিগমের সঙ্গে সংযুক্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে বলে ইঙ্গিত দেন।
দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়ে নতুন প্রতিমন্ত্রী স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, মানুষের কাজ যেন কোনওভাবেই আটকে না থাকে সেটাই হবে তাঁর প্রধান দায়িত্ব। কাটমানি ও অস্বচ্ছতার বিরুদ্ধে তাঁর মন্তব্য ইতিমধ্যেই সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের মতে, একজন সাধারণ মানুষের মতো চলাফেরা করা নেতাকেই তারা সবসময় পাশে পেয়েছেন। তাই তাঁর মন্ত্রীত্বে এলাকার উন্নয়নের গতি আরও বাড়বে বলেই আশা করছেন সকলে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, সংগঠনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, স্বচ্ছ ভাবমূর্তি এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে সংযোগ—এই তিনের সমন্বয়ই আনন্দময় বর্মনকে দলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে তুলে ধরেছে। এখন দেখার, নতুন দায়িত্বে তিনি কত দ্রুত এলাকার উন্নয়নের স্বপ্ন বাস্তবায়িত করতে পারেন।
মন্ত্রীত্বের এই নতুন অধ্যায় ঘিরে মাটিগাড়া-নকশালবাড়ির মানুষের চোখে এখন একটাই স্বপ্ন—উন্নয়ন, স্বচ্ছতা এবং বদলের নতুন সূচনা।


Recent Comments