দক্ষিণ ২৪ পরগনার নরেন্দ্রপুর (Narendrapur) থানা এলাকায় এক চাঞ্চল্যকর অপরাধের ঘটনা সামনে এসেছে। বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের জেরে নিজের স্বামীকে সুপারি কিলার (Superi Killer) বা ভাড়াটে গুন্ডা দিয়ে নৃশংসভাবে খুনের চেষ্টা করার অভিযোগ উঠল এক মহিলা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এই ঘটনায় খোদ চিকিৎসক স্ত্রী এবং তাঁর প্রেমিকের পাশাপাশি আরও এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে নরেন্দ্রপুর থানার পুলিশ।
তদন্তে নেমে পুলিশ জানতে পেরেছে, পেশায় দাঁতের ডাক্তার (Dentist) ওই মহিলা দীর্ঘদিন ধরেই এক যুবকের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন। আর সেই পরকীয়া সম্পর্কের পথে স্বামী কাঁটা হয়ে দাঁড়ানোতেই তাঁকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার এই ভয়ঙ্কর নীল নকশা সাজানো হয়েছিল।
ঠিক কী ঘটেছিল?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আক্রান্ত স্বামীর নাম সুপ্রতিম সরকার (Supratim Sarkar)। তাঁর স্ত্রী, পেশায় দন্ত্য চিকিৎসক অনন্যা ভট্টাচার্য (Ananya Bhattacharya) গত কয়েক বছর ধরেই পারিবারিক অশান্তির জেরে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছিলেন। তাঁদের ডিভোর্স বা বিবাহবিচ্ছেদের মামলাও আদালতে চলছিল। এরই মাঝে অনন্যা দেবীর সাথে সুমিত দে (Sumit Dey) নামে এক যুবকের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।
অভিযোগ, স্বামীকে জীবন থেকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে প্রেমিক সুমিতের সাথে হাত মেলান অনন্যা। স্বামীকে খুনের উদ্দেশ্যে তাঁরা এক সুপারি কিলারের সাথে চুক্তি করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত রাতে সুপ্রতিমবাবু যখন রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন আচমকাই তাঁর ওপর ধারালো অস্ত্র নিয়ে প্রাণঘাতী হামলা চালানো হয়। সুপ্রতিমবাবুর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা ছুটে এলে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
তদন্তে নেমে পুলিশের বড় সাফল্য
ঘটনার পর আক্রান্তের পরিবারের তরফ থেকে নরেন্দ্রপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। তদন্তে নেমে পুলিশ অনন্যা ভট্টাচার্যের মোবাইল ফোনের কল লিস্ট (Call List) এবং সামাজিক মাধ্যমের সূত্র ধরে কেঁচো খুঁড়তে কেউটে বের করে আনে।
জিজ্ঞাসাবাদে অনন্যা ও তাঁর প্রেমিক সুমিতের বয়ানে একাধিক অসঙ্গতি ধরা পড়ে। এরপরই পুলিশ অনন্যা ভট্টাচার্য (Ananya Bhattacharya), তাঁর প্রেমিক সুমিত দে (Sumit Dey) এবং হামলায় সাহায্যকারী সুপারি কিলার হিল্লোল মণ্ডল (Hillol Mondal)-কে গ্রেফতার করে। ধৃতদের বিরুদ্ধে খুনের চেষ্টা (Attempt to Murder) এবং অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের একাধিক ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
পেশার জগৎ ও অপরাধের মেলবন্ধন: একজন চিকিৎসকের মতো সম্মানজনক পেশায় যুক্ত থেকে কীভাবে কেউ ঠান্ডা মাথায় স্বামীকে খুনের মতো অপরাধের ছক কষতে পারেন, তা ভেবেই শিউরে উঠছেন নরেন্দ্রপুরের বাসিন্দারা। স্থানীয় এলাকায় এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।


Recent Comments