উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা আরও শক্তিশালী করতে উত্তরকন্যায় অনুষ্ঠিত হল একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠক। প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনার বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নিয়েই মূলত এই বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
২০২৪-২৫ থেকে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষ পর্যন্ত প্রকল্পের সার্বিক রূপরেখা খতিয়ে দেখে কীভাবে তা আরও দ্রুত ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা যায়, সেই বিষয়েই গুরুত্ব দেওয়া হয়। চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল বৈঠকের প্রধান লক্ষ্য।
এদিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দপ্তরের মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, সাংসদ মনোজ টিগ্গা, বিধায়ক বিশাল লামা-সহ প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিক ও চা শিল্পের প্রতিনিধিরা।
বৈঠকে বিশেষভাবে আলোচনা হয়, কীভাবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে প্রকল্পের সুবিধা সরাসরি শ্রমিকদের কাছে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। পাশাপাশি আগামী দিনে প্রকল্পের পরিধি বৃদ্ধি, শ্রমিক কল্যাণমূলক কর্মসূচিকে আরও জনমুখী করা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, চা বাগান কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়েও বিস্তারিত পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
শ্রমিকদের আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা সংক্রান্ত যে সমস্ত প্রকল্প ইতিমধ্যেই চালু রয়েছে, সেগুলির অগ্রগতিও খতিয়ে দেখা হয় বৈঠকে। উপস্থিত জনপ্রতিনিধিরা মনে করেন, প্রধানমন্ত্রী চা শ্রমিক প্রোৎসাহন যোজনার মতো বৃহৎ উদ্যোগ উত্তরবঙ্গের চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্রমিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত হলে চা বাগানের উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে উত্তরবঙ্গের ঐতিহ্যবাহী চা শিল্প নতুন করে আর্থিক স্থিতিশীলতা ও দীর্ঘমেয়াদি বিকাশের পথে এগোবে বলেই আশা প্রকাশ করা হয়েছে।


Recent Comments