রাজ্য রাজনীতিতে ঘাসফুল শিবিরের রক্তক্ষরণ ও ভাঙন যেন কোনোভাবেই থামছে না। ফিরহাদ হাকিমের মেয়র পদ থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরদিনই এবার তৃণমূল কংগ্রেসে আরও এক বড়সড় ধাক্কা। সক্রিয় রাজনীতি থেকে পুরোপুরি সন্ন্যাস নেওয়ার ঘোষণা করলেন হুগলি জেলার দাপুটে নেতা তথা রাজ্যের প্রাক্তন পরিবহণ মন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী (Snehasis Chakraborty)।
বিগত সরকারের অন্যতম হেভিওয়েট ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির এই নেতার আচমকা রাজনীতি ছাড়ার সিদ্ধান্তে রাজ্য রাজনীতিতে তীব্র শোরগোল পড়ে গিয়েছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, দল ছাড়ার নেপথ্যে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কাজের পরিবেশ এবং অভ্যন্তরীণ একনায়কতন্ত্রকে কাঠগড়ায় তুলেছেন তিনি।
“দলে দমবন্ধ করা পরিবেশ, কাজের স্বাধীনতা নেই”
রাজনীতি ছাড়ার ঘোষণা করার পাশাপাশি তৃণমূল কংগ্রেসের বর্তমান সাংগঠনিক কাঠামো ও কার্যপদ্ধতি নিয়ে চরম ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। ঘনিষ্ঠ মহল ও সূত্রের খবর অনুযায়ী, তাঁর এই সিদ্ধান্তের পেছনে রয়েছে তীব্র মানসিক অভিমান ও দলের অন্দরে তৈরি হওয়া এক দমবন্ধ করা পরিস্থিতি।
- স্বাধীনতার অভাব: তিনি স্পষ্ট অভিযোগ করেছেন যে, দলে বর্তমানে সাধারণ কর্মী বা প্রবীণ নেতাদের স্বাধীনভাবে কাজ করার কোনো সুযোগ বা স্বাধীনতা অবশিষ্ট নেই।
- স্বৈরাচারী মানসিকতা: দলের নীতি নির্ধারণ এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিচুতলার বা অভিজ্ঞ নেতাদের মতামতকে সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে একটি নির্দিষ্ট মহলের স্বৈরাচারী সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
- সম্মানহানি: দলের জন্য দীর্ঘদিন ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করার পরেও যেভাবে প্রবীণ নেতাদের কোণঠাসা করে রাখা হচ্ছে, তাতে আত্মসম্মান বজায় রেখে আর রাজনীতি করা সম্ভব নয় বলেই তিনি মনে করছেন।
হুগলির রাজনীতিতে বড়সড় রদবদলের সম্ভাবনা
হুগলি জেলার রাজনীতিতে স্নেহাশিস চক্রবর্তী অত্যন্ত দক্ষ ও প্রভাবশালী সংগঠক হিসেবে পরিচিত। সিঙ্গুর আন্দোলন থেকে শুরু করে জেলার প্রতিটি ব্লকে দলের সংগঠন মজুত রাখার পেছনে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য ছিল। স্বাভাবিকভাবেই, বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর যেখানে দল ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে, সেখানে তাঁর মতো একজন চাণক্যের এভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া হুগলি জেলা তো বটেই, সামগ্রিকভাবে রাজ্য তৃণমূলের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।
‘আসল তৃণমূল’ বনাম মূল শিবিরের টানা পোড়েন
বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ৫৮ জন বিধায়ক ‘আসল তৃণমূল’ গঠন করার পর থেকেই মূল তৃণমূল শিবিরের অন্দরে চরম অবিশ্বাসের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কারুর মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন যুব গোষ্ঠীর সাথে প্রবীণ নেতাদের যে অলিখিত ঠান্ডা লড়াই চলছিল, স্নেহাশিসবাবুর এই ইস্তফা তারই সরাসরি বহিঃপ্রকাশ।
তিনি কি সত্যিই বাড়ি বসে যাবেন নাকি আগামী দিনে ‘আসল তৃণমূল’ বা অন্য কোনো রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে নিজেকে মেলে ধরবেন, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক মহলে নানামুখী জল্পনা ও স্ক্রিপ্ট তৈরি হতে শুরু করেছে।


Recent Comments