হুগলির রাজনীতিতে ফের শোরগোল ফেললেন প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক অসিত মজুমদার। পুলিশি কাজে বাধা ও রাস্তা অবরোধের মামলায় আদালত থেকে জামিন মিললেও, নতুন করে তোলাবাজির অভিযোগ সামনে আসায় আপাতত জেলমুক্তি হচ্ছে না তাঁর। ফলে রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।
সম্প্রতি তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে হওয়া বিতর্কের প্রতিবাদে চুঁচুড়ার পিপুলপাতি মোড়ে বিক্ষোভ ও রাস্তা অবরোধ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন অসিত মজুমদার। সেই সময় তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয় বলে অভিযোগ। পুলিশের দাবি, বিক্ষোভ চলাকালীন সরকারি কাজে বাধা দেওয়া হয় এবং দীর্ঘক্ষণ রাস্তা আটকে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি সৃষ্টি করা হয়। এরপরই পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করে।
এই ঘটনায় অসিত মজুমদার-সহ একাধিক তৃণমূল নেতা ও কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আদালতে শুনানির সময় ওই মামলায় জামিন মেলে অভিযুক্তদের। কিন্তু ঠিক সেই সময়ই নতুন করে সামনে আসে তোলাবাজির অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে খবর, পৃথক একটি মামলায় অসিত মজুমদারের নাম জড়িয়েছে। সেই মামলায় আরও কয়েক জন স্থানীয় তৃণমূল নেতার নামও রয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
নতুন মামলায় জামিন না মেলায় আপাতত সংশোধনাগারেই থাকতে হচ্ছে প্রাক্তন এই বিধায়ককে। ফলে রাজনৈতিক অন্দরে চাপ আরও বেড়েছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। একদিকে যখন রাজ্যের শাসকদলকে ঘিরে একাধিক দুর্নীতি ও আইনি বিতর্ক সামনে আসছে, ঠিক সেই সময় দলের এক প্রাক্তন হেভিওয়েট নেতার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে।
অন্যদিকে বিরোধীরা এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে তৃণমূলকে কড়া আক্রমণ শুরু করেছে। তাঁদের দাবি, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে শাসকদলের নেতাদের বিরুদ্ধে বারবার একই ধরনের অভিযোগ সামনে আসছে। যদিও তৃণমূল নেতৃত্বের পাল্টা দাবি, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই তাঁদের নেতাদের টার্গেট করা হচ্ছে।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হুগলির রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ এবং আদালতের নির্দেশের দিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।


Recent Comments