রাজ্য রাজনীতি এবং বিনোদন জগৎ— দুই জায়গাতেই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে একটাই খবর। অবশেষে গ্রেপ্তার হয়েছেন স্বরূপ বিশ্বাস (Swarup Biswas)। রাজ্যের প্রভাবশালী মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের (Arup Biswas) ভাই হিসেবে পরিচিত স্বরূপ দীর্ঘদিন ধরেই টলিউড (Tollywood) বা বাংলা বিনোদন দুনিয়ায় এক বিশাল ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। তাঁর এই গ্রেপ্তারির খবর প্রকাশ্যে আসতেই এবার বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন বর্ষীয়ান রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব দিলীপ ঘোষ (Dilip Ghosh)।
তাঁর কথায় স্পষ্ট হয়ে উঠল সেই পুঞ্জীভূত ক্ষোভের কথা, যা দীর্ঘদিন ধরে টলিপাড়ার অন্দরে ধিকধিক করে জ্বলছিল।দীর্ঘদিন ধরে কানাঘুষো শোনা যেত, দাদা অরূপ বিশ্বাসের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক ক্ষমতার ফায়দা তুলে বাংলা চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন দুনিয়ায় কার্যত একনায়কতন্ত্র চালাতেন স্বরূপ। টলিপাড়ার অন্দরের খবর অনুযায়ী, এই ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’-এর অঙ্গুলিহেলন ছাড়া স্টুডিও পাড়ায় নাকি একটা পাতাও নড়ত না। এই প্রসঙ্গে মুখ খুলে দিলীপ ঘোষ কড়া ভাষায় সমালোচনা করেছেন।
তিনি সংবাদমাধ্যমের সামনে ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “ক্ষমতা কাজে লাগিয়ে কত অত্যাচার করেছে এরা, তার কোনও ইয়ত্তা নেই।” তাঁর এই মন্তব্য যেন বিনোদন জগতের অনেক না-বলা কথারই প্রতিধ্বনি।বাংলা সিনেমা এবং সিরিয়ালের সঙ্গে যুক্ত কলাকুশলী থেকে শুরু করে প্রযোজক, পরিচালকদের একাংশের মধ্যে দীর্ঘদিনের চাপা ক্ষোভ ছিল স্বরূপ বিশ্বাসের এই খবরদারির বিরুদ্ধে।
অভিযোগ, ফেডারেশন এবং বিভিন্ন গিল্ডের ওপর তাঁর এতটাই প্রভাব ছিল যে, কে কাজ পাবে আর কে কাজ পাবে না, তা নির্ধারণ করে দিতেন তিনিই। কেউ প্রতিবাদ করার সাহস দেখালে তাঁকে কার্যত একঘরে করে দেওয়া হত বলে অভিযোগ। রাজ্যের শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকার কারণে ভয়ে কেউ প্রকাশ্যে মুখ খুলতে চাইতেন না।
টলিউডের কলাকুশলীদের একাংশ জানাচ্ছেন, টেকনিশিয়ানদের গিল্ড থেকে শুরু করে আর্টিস্ট ফোরাম— সব জায়গাতেই নাকি স্বরূপের অদৃশ্য রাশ কাজ করত। কাজের শিডিউল তৈরি থেকে শুরু করে পারিশ্রমিক নির্ধারণ, এমনকি ভিন রাজ্য থেকে বা বিদেশ থেকে শুটিংয়ের কাজে আসা ইউনিটগুলিকেও নাকি মোটা অঙ্কের ‘তোলা’ বা বিশেষ সুবিধা দিতে হত। এই সিন্ডিকেটরাজের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস ছিল না কারও।
দিলীপ ঘোষ এই প্রসঙ্গটি টেনেই পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) সামগ্রিক শাসনব্যবস্থার দিকে আঙুল তুলেছেন। তাঁর মতে, শুধু বালি, কয়লা বা প্রোমোটিং নয়, শিল্প ও সংস্কৃতির জগতেও কাটমানি ও সিন্ডিকেটের থাবা বসিয়েছিল এই ‘বিশ্বাস’ পরিবার।বিরোধী নেতা হিসেবে দিলীপ ঘোষ বরাবরই ঠোঁটকাটা। এদিন তিনি স্বরূপের গ্রেপ্তারি নিয়ে বলতে গিয়ে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসন ও শাসকদলের যোগসাজশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।
তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের টাকা এবং গরিব টেকনিশিয়ানদের হকের টাকা লুট করে যে সাম্রাজ্য তৈরি হয়েছিল, আজ তার ভিত সম্পূর্ণভাবে নড়ে গিয়েছে। ক্ষমতার দম্ভ যে চিরকাল থাকে না, এই সত্যটাই যেন আবারও প্রমাণিত হল কলকাতার (Kolkata) বুকে।


Recent Comments